বৈশ্বিক পাসপোর্টের শক্তি নির্দেশক হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্সের সর্বশেষ হালনাগাদকৃত র্যাংকিংয়ে তিন ধাপ উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত এই সূচকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থার এই ইতিবাচক পরিবর্তন দেশের কূটনৈতিক ও ভ্রমণ খাতের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূচকের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের মান এবং ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যাতায়াতের সুবিধার ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশি পাসপোর্টের অবস্থান কিছুটা হলেও সুদৃঢ় হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে পাসপোর্টের শক্তি মূলত নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর। বাংলাদেশ এই সূচকে কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার ফলে বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি আরও ইতিবাচক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশের সঙ্গে ভ্রমণ চুক্তি বা ভিসা সহজীকরণ প্রক্রিয়ার পথ সুগম হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক যাতায়াতকে আরও সহজতর করবে।
তবে এই সামান্য অগ্রগতি সত্ত্বেও বৈশ্বিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের পাসপোর্টকে আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টিকিয়ে রাখা, পাসপোর্টের আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করার মাধ্যমে এই অবস্থানকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় পাসপোর্টের মানোন্নয়ন দেশের জনশক্তি রপ্তানি, উচ্চশিক্ষা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
সাধারণত বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশের পাসপোর্ট এবং ২২৭টি ভ্রমণ গন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে এই হেনলি ইনডেক্স তৈরি করা হয়। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন কর্তৃপক্ষের (আইএটিএ) সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর নির্ভর করে প্রতি বছর এই সূচক প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশের এই তিন ধাপ অগ্রগতির ফলে সামগ্রিক বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন যে, আগামী দিনগুলোতে দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সূচকে আরও বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
