কাতারের রাজধানী দোহায় বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বিরতিতে এই বৈঠক নিয়ে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, তবে তেহরান বরাবরই সরাসরি কোনো শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দোহায় অবস্থান করছেন। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী, তেহরানের অনুরোধেই এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। তবে ইরান বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাদের প্রতিনিধিদল কাতারে থাকলেও তা মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য নয়। তাদের মূল লক্ষ্য হলো কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করা। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো গত ১৭ জুনের সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন এবং ইরানের জব্দ থাকা সম্পদ অবমুক্ত করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা। ইরান সতর্ক করে দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি পূর্বের কোনো সমঝোতা ভঙ্গ করার চেষ্টা করে, তবে তার কড়া জবাব দেওয়া হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, দোহায় কোনো সরাসরি শান্তি আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ স্কট উয়েলিঙ্গার আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন সম্ভবত হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক উত্তেজনা প্রশমনে একটি পরোক্ষ কারিগরি আলোচনার কৌশল বেছে নিয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ এই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে একটি জোট গঠন করতে, যারা এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের এই অস্বীকৃতিকে ‘পারস্য দর-কষাকষির কৌশল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর জুন মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, তা বর্তমানে বেশ নাজুক অবস্থায় রয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। দোহায় চলমান এই পরিস্থিতির ওপর এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
