চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের লড়াইয়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে আইভরিকোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে নরওয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত টানটান উত্তেজনার এই ম্যাচে জয়সূচক গোলটি আসে নরওয়ের সুপারস্টার আর্লিং হালান্ডের পা থেকে। নির্ধারিত সময়ের মাত্র চার মিনিট আগে করা তার এই গোলটি ইউরোপীয় দলটির জন্য জয় নিশ্চিত করে। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল প্রদর্শন করে। বলের দখল এবং সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে নরওয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও আইভরিকোস্টের পাল্টা আক্রমণগুলো নরওয়ের রক্ষণভাগকে বেশ কয়েকবার পরীক্ষার মুখে ফেলে। ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে অ্যান্তোনিও নুসার দূরপাল্লার এক জোরালো শট আইভরিকোস্টের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলে নরওয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায়। প্রথমার্ধে দুই দলই সমানতালে লড়াই করলেও নরওয়ের আক্রমণ ছিল বেশি ধারালো।
দ্বিতীয়ার্ধে সমতায় ফেরার লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে ওঠে আইভরিকোস্ট। তাদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার ফল আসে ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা আমাদ দিয়ালো ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে নরওয়ের একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল দিয়ালোর দ্বিতীয় গোল। ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে গড়াচ্ছে বলে যখন মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে আবির্ভূত হন আর্লিং হালান্ড। ৮৬তম মিনিটে প্যাট্রিক বার্গের নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে জয়সূচক গোলটি করেন এই তারকা স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপে এটি তার পঞ্চম গোল।
এই জয়ের মাধ্যমে নরওয়ে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ড অর্থাৎ শেষ ষোলোয় নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করে। আগামী ৫ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এর আগে জাপানকে পরাজিত করে ব্রাজিল শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছিল। এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীদের নজর থাকবে হালান্ড বনাম ব্রাজিলিয়ান রক্ষণভাগের লড়াইয়ের দিকে। বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে নরওয়েকে তাদের সেরাটা দিতে হবে, বিশেষ করে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, হালান্ডের ফর্ম এবং নরওয়ের দলীয় সংহতি এই ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
