বর্তমান ডিজিটাল যুগে কনটেন্ট মনিটাইজেশন যেন এক নতুন নেশায় পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি করে আয় করার স্বপ্ন এখন তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে এক সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার কথা, যিনি ডলার আয়ের নেশায় বুঁদ হয়ে নিজের দৈনন্দিন জীবনকে এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতায় রূপ দিয়েছেন। বিশ্ববাজারে ডলারের অস্থিরতা কিংবা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে তার ডলারের হিসাব মেলানোর চেষ্টা এক ধরনের হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিনয়ী আচরণের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিরক্তি আর কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ভাইরাল হওয়ার মরিয়া চেষ্টা আজকের সোশ্যাল মিডিয়া সংস্কৃতির এক নগ্ন বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে।
কনটেন্ট মনিটাইজেশনের গোলকধাঁধায় পড়ে অনেকেই এখন ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বিসর্জন দিচ্ছেন। ভাত খাওয়া, সবজি কাটার ভিডিও কিংবা সাধারণ জীবনযাত্রাকে ক্যামেরাবন্দি করে ভিউ বাড়ানোর যে ইঁদুর দৌড়, তা ব্যক্তিজীবনকে করেছে কৃত্রিম। এই প্রক্রিয়ায় কেউ সফল হচ্ছেন, কেউবা পরিণত হচ্ছেন ট্রল বা মিমের পাত্রে। গল্পে দেখা যায়, সামান্য ৩.৩২ ডলারের মালিক হয়েও ব্যক্তিটি বিশ্ব অর্থনীতির সাথে নিজের হিসাব মেলানোর ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। এমনকি মাছ কিনতে গিয়েও ডলারে দামাদামি করার মতো বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না তিনি। এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং আজকের কনটেন্ট-নির্ভর সমাজের এক প্রতিচ্ছবি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের প্রতিনিয়ত রিলস বা ভিডিও তৈরির প্ররোচনা দিচ্ছে, যা অনেক সময় সৃজনশীলতার চেয়ে সস্তা জনপ্রিয়তার দিকেই বেশি ধাবিত করে। ভিক্ষুক সেজে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ‘সোশ্যাল এক্সপেরিমেন্ট’ করার ভান করা কিংবা ব্যক্তিগত মুহূর্তকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করা এখনকার সময়ের এক নতুন প্রবণতা। এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গিয়ে মানুষ যখন নিজের স্বাভাবিক সত্তা হারিয়ে ফেলে, তখন ‘মানিটাইজেশন’ বা অর্থের উপার্জন গৌণ হয়ে পড়ে এবং মানুষের মর্যাদা ও সামাজিক সম্পর্কগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। শেষ পর্যন্ত, এই ডিজিটাল গোলকধাঁধা আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, তা আজ ভাববার সময় এসেছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
