আধুনিক ডিজিটাল বিশ্বের অন্যতম স্থপতি এবং ইন্টারনেটের প্রোটোকল ডিজাইনার ভিনটন কার্ফ দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টেনে গুগল থেকে অবসরে যাচ্ছেন। প্রযুক্তি বিশ্বের এই কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব গত কয়েক বছর ধরে গুগলের ‘চিফ ইন্টারনেট ইভানজেলিস্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আগামী সপ্তাহেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই পদ থেকে অব্যাহতি নেবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। ইন্টারনেটের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত ‘টিসিপি/আইপি’ (TCP/IP) প্রোটোকল তৈরির অন্যতম কারিগর হিসেবে ভিনটন কার্ফ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
১৯৭০-এর দশকে রবার্ট কানের সাথে যৌথভাবে ভিনটন কার্ফ ইন্টারনেটের মূল যোগাযোগ ব্যবস্থা বা প্রোটোকল উদ্ভাবন করেন, যা আজকের এই আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের মেরুদণ্ড। ইন্টারনেটের জনক হিসেবে পরিচিত এই বিজ্ঞানীর অবদান ছাড়া বর্তমানের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা কল্পনা করাও অসম্ভব। ২০০৫ সালে গুগলে যোগদানের পর থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল ইন্টারনেট নীতি এবং প্রযুক্তিগত প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি গুগলের হয়ে বিভিন্ন বৈশ্বিক ফোরামে ইন্টারনেটের উন্মুক্ততা, নিরাপত্তা এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পক্ষে কাজ করেছেন।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ভিনটন কার্ফ কেবল গুগল নয়, বরং সমগ্র প্রযুক্তি খাতের নীতিনির্ধারণে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার এই বিদায় শুধু গুগলের জন্য নয়, বরং বিশ্ব প্রযুক্তি সম্প্রদায়ের জন্য এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। যদিও তিনি গুগলের নিয়মিত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, ইন্টারনেটের সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তার পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা আগামী দিনেও প্রাসঙ্গিক থাকবে।
গুগলের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় ইন্টারনেটের শাসন ব্যবস্থা ও ডিজিটাল অধিকার রক্ষার কাজ করেছেন। তার চলে যাওয়ার খবরে প্রযুক্তি বিশ্বে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অনেকেই তার দীর্ঘ কর্মময় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। ভিনটন কার্ফের রেখে যাওয়া এই বিশাল কর্মযজ্ঞ এবং ইন্টারনেটের অগ্রযাত্রায় তার অবদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ডিজিটাল বিপ্লবের এই রূপকার এখন তার ব্যক্তিগত অবসর জীবন উপভোগ করবেন, তবে তার উদ্ভাবনী চিন্তা ও দর্শন আগামী দিনের ইন্টারনেটের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
