কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল বারীকে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ১৬০ কেজি গাঁজা জব্দ করার পর তা গোপনে বিক্রির গুরুতর অভিযোগে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার কুমিল্লার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার বিষয়টি জানানো হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত সোমবার সন্ধ্যায়, যখন দাউদকান্দি মডেল থানার দুইজন উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ গাঁজা অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। এই চাঞ্চল্যকর খবরটি দ্রুত এলাকায় জানাজানি হলে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও আইনের প্রয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেই মাদক বাণিজ্যের এমন অভিযোগ পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশ প্রশাসন দ্রুত তদন্তের স্বার্থে ওসি আবদুল বারীকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন ওসি মো. আবদুল বারী। তিনি দাবি করেছেন, কোনো একটি পত্রিকা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, দাউদকান্দি থানায় এ ধরনের কোনো ঘটনার অস্তিত্ব নেই এবং তিনি ব্যক্তিগত বিদ্বেষের শিকার হয়েছেন।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে ওসি আবদুল বারী জানান, তিনি ইতোমধ্যে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রয়োজনে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতেও প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কোনো ধরনের ভিত্তিহীন অপবাদ মাথায় নিয়ে তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করতে রাজি নন।
উল্লেখ্য, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে পুলিশ প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো এবং দুর্নীতিমুক্ত করার যে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই এমন ঘটনাগুলোকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সাথে দেখা হচ্ছে। এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উন্মোচনের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় জনসাধারণ। বিষয়টি এখন জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানা গেছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
