বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারে গত ১৩ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতনের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন ডলারের ক্রমাগত শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর ফলে ২০১৩ সালের পর চলতি প্রান্তিকে মূল্যবান এই ধাতুর দামে নজিরবিহীন নিম্নগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশহীন স্বর্ণের চেয়ে মার্কিন ডলারের মতো শক্তিশালী মুদ্রায় বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন, যা বিশ্ববাজারে স্বর্ণের চাহিদাকে সংকুচিত করে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে স্বর্ণের দাম ১১ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে, যা টানা চার মাস ধরে চলা নিম্নমুখী প্রবণতারই অংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্স ২ হাজার ২৯ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের পর সর্বনিম্ন। স্যাক্সো ব্যাংকের বাজার বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেনের মতে, বাজারে বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের দুর্বল মনোভাব কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, স্বর্ণের দর স্থিতিশীল হওয়ার জন্য প্রতি আউন্স মূল্য অন্তত ২ হাজার ১০০ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করা প্রয়োজন, যা বর্তমানে বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে।
স্বর্ণের এই দরপতনের পেছনে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। সিএমই ফেডওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৬৪ শতাংশ। সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়লে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের বাজারের মূল স্রোত থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। রুপা, প্ল্যাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের দরেও ধীরগতির পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্ব তেলের বাজার ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক দরপতনের মুখোমুখি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থা আগামী দিনগুলোতে মূল্যবান ধাতুর বাজারকে আরও দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
