ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর বিশ্বকাপ কেবল নতুন তারকার উত্থানের মঞ্চ নয়, বরং এটি অনেক কিংবদন্তির বিদায়লগ্নের সাক্ষীও বটে। সময়ের স্রোতে অনেক তারকা ফুটবলার এখন তাদের ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে। বয়স এবং শারীরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় এবারের বিশ্বকাপ আসরটি অনেকের জন্যই হতে যাচ্ছে বিশ্বমঞ্চে শেষবারের মতো নিজেদের ঝলক দেখানোর সুযোগ। লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো থেকে শুরু করে লুকা মদ্রিচ—ফুটবল প্রেমীদের দীর্ঘদিনের সঙ্গী এই মহাতারকারা আগামী বিশ্বকাপে থাকবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি, যিনি ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ারের মুকুটে পূর্ণতা এনেছেন, তিনি ৩৯ বছর বয়সে এসেও ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে মরিয়া। অন্যদিকে, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ৪১ বছর বয়সে এসে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের একমাত্র অপূর্ণ স্বপ্ন বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের শেষ লড়াইয়ে নেমেছেন। তাদের পাশাপাশি ক্রোয়েশিয়ার অবিসংবাদিত নেতা লুকা মদ্রিচ ৪০ বছর বয়সেও মাঠের সৃজনশীলতার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছেন। জার্মানির গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার এবং বেলজিয়ামের কেভিন ডি ব্রুইনও তাদের সোনালি সময়ের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
ব্রাজিলের নেইমার জুনিয়র, যিনি দীর্ঘদিন ধরে চোটে জর্জরিত থাকা সত্ত্বেও জাতীয় দলের হয়ে খেলার আবেগে অটল, তার সামনেও এটি শৈশবের স্বপ্ন পূরণের চূড়ান্ত সুযোগ হতে পারে। এছাড়া নেদারল্যান্ডসের রক্ষণভাগের অবিসংবাদিত নেতা ভার্জিল ফন ডাইক, মিশরের লিভারপুল কিংবদন্তি মোহাম্মদ সালাহ, দক্ষিণ কোরিয়ার সন হিউং-মিন এবং সেনেগালের সাদিও মানে—প্রত্যেকেই নিজ নিজ দেশের ফুটবলের ইতিহাসে উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাদের অসামান্য অবদানের কারণে নিজ নিজ দেশের ফুটবল দল বিশ্বমঞ্চে নতুন করে পরিচিতি পেয়েছে।
এই কিংবদন্তিদের বিদায় কেবল একটি যুগের সমাপ্তি নয়, বরং ফুটবলের এক স্বর্ণযুগের অবসান। তাদের অভাব কেবল পরিসংখ্যানের খাতায় নয়, বরং মাঠের সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বগুণেও অনুভূত হবে। বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ এখন ভক্তদের কাছে এক একটি আবেগঘন স্মৃতি। নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা হয়তো ভবিষ্যতে তাদের জায়গা পূরণ করবে, কিন্তু মেসি বা রোনালদোর মতো মহাতারকারা যে উচ্চতায় ফুটবলকে নিয়ে গেছেন, তা আগামী বহু বছর ফুটবল প্রেমীদের হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে। চলতি আসরটি তাই কেবল ট্রফি জয়ের লড়াই নয়, বরং এই মহাতারকাদের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের প্রতি এক শ্রদ্ধাঞ্জলিও বটে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
