বাংলাদেশে স্মার্টফোনের বাজার অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তিপণ্যের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন এবং আমদানি শুল্কের জটিলতাকে এই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তিনি।
বর্তমানে স্মার্টফোন কেবল বিলাসিতার পণ্য নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারে হ্যান্ডসেটের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলসি খোলার জটিলতা এবং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শাওমির শীর্ষ এই কর্মকর্তা জানান, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক ব্র্যান্ডই তাদের পণ্যের দাম পুনর্নির্ধারণ করতে বাধ্য হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোনের যন্ত্রাংশ আমদানিতে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়, টাকার মান কমে যাওয়ায় তা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এছাড়া, সরকারি রাজস্ব নীতি এবং ভ্যাট-ট্যাক্সের নতুন কাঠামোও হ্যান্ডসেটের চূড়ান্ত খুচরা মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলছে। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত গ্রাহকরা নতুন স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে দ্বিধায় পড়ছেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি ডলার সংকট নিরসন না হয় এবং আমদানিতে বিশেষ কোনো ছাড় না পাওয়া যায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে স্মার্টফোনের দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার আরও বাইরে চলে যেতে পারে। এতে করে স্মার্টফোনের বাজার সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যমাত্রাকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ব্যবসায়ী ও গ্রাহকরা।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
