গাড়ি নির্মাণ শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহারের যে স্বপ্ন দেখেছিল মার্কিন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফোর্ড মোটর কোম্পানি, তা বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে যে, কেবল এআই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে উচ্চমানের পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব নয়। এই উপলব্ধি থেকে তারা এখন তাদের অভিজ্ঞ এবং প্রবীণ প্রকৌশলীদের, যাদের তারা আদর করে ‘গ্রে বিয়ার্ড’ বা পাকা দাড়িওয়ালা প্রকৌশলী হিসেবে অভিহিত করছে, তাদের পুনরায় কর্মক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।
ফোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তির মোহে তারা একসময় মনে করেছিল যে, জটিল প্রকৌশলগত সমস্যাগুলো সমাধান এবং গুণমান নিশ্চিত করার জন্য কেবল এআই-ই যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে ভিন্ন কথা। অটোমোবাইল শিল্পের সূক্ষ্ম কারিগরি দিক, যা দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও হাতে-কলমে কাজের মাধ্যমে অর্জিত হয়, তা কেবল অ্যালগরিদমের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়। এই ভুল বুঝতে পেরে ফোর্ড এখন তাদের পুরনো ও দক্ষ জনবলকে কাজে লাগিয়ে উৎপাদন ব্যবস্থার গুণমান পুনরুদ্ধারে মনোযোগ দিয়েছে।
শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, ফোর্ডের এই সিদ্ধান্তটি প্রযুক্তি নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটি বড় শিক্ষা। প্রযুক্তির উৎকর্ষতা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ, তবে দক্ষ প্রকৌশলীদের অর্জিত দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং বিচারবুদ্ধি গাড়ি তৈরির মতো জটিল প্রক্রিয়ায় অপরিবর্তনীয়। ফোর্ড এখন তাদের পুরনো অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের নতুন প্রজন্মের কর্মীদের সাথে সমন্বয় করার পরিকল্পনা করছে, যাতে এআই এবং অভিজ্ঞতার একটি সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকে।
প্রতিষ্ঠানের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ভুল পথে হাঁটার বিষয়টি তারা স্বীকার করছেন এবং এটি থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা এখন উৎপাদনের মানোন্নয়নে কাজ করছেন। নতুন প্রযুক্তির সাথে প্রবীণদের অভিজ্ঞতা যুক্ত হলে ফোর্ডের হারানো গৌরব এবং পণ্যের মান পুনরায় বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গাড়ি নির্মাণে অটোমেশনের যে জোয়ার বিশ্বজুড়ে চলছে, তার মাঝে ফোর্ডের এই পদক্ষেপটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সাহসী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
