Friday , July 10 2026
Breaking News
সাজেক থেকে নিরাপদে ফিরলেন পর্যটকরা: সেনাবাহিনী ও পুলিশের সফল উদ্ধার অভিযান

সাজেক থেকে নিরাপদে ফিরলেন পর্যটকরা: সেনাবাহিনী ও পুলিশের সফল উদ্ধার অভিযান

টানা কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের ফলে রাঙামাটির সাজেক ভ্যালিতে আটকা পড়েছিলেন শত শত পর্যটক। দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় ভূমিধস এবং প্রধান সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে একটি বিশেষ নিরাপত্তা স্কটের মাধ্যমে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। পাহাড়ি ঢলে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। আটকে পড়া পর্যটকদের মধ্যে নারী, শিশু এবং বয়স্করা চরম ভোগান্তির শিকার হন। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাঙামাটি রিজিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। তারা দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ পথগুলো চিহ্নিত করে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ করিডোর তৈরি করে।

উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা পাহাড়ি রাস্তায় আটকা পড়া পর্যটকবাহী গাড়িগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় এই কাফেলাটি অত্যন্ত সাবধানে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের দিকে নিয়ে আসা হয়। খাগড়াছড়ি পৌঁছানোর পর পর্যটকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অনেক পর্যটক দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে আতঙ্কিত থাকলেও, নিরাপত্তা বাহিনীর এমন তৎপরতায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন আগে থেকেই সতর্ক ছিল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যটকদের সচেতন করতে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সাজেক এলাকায় আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধার হওয়ার পর বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও, পাহাড়ি ঢলের কারণে এখনো কিছু এলাকায় ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে রাঙামাটির পাহাড়ি জনপদে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ধরনের দুর্যোগে পর্যটকদের জীবন বাঁচাতে নিরাপত্তা বাহিনীর এমন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ প্রশংসিত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণে পর্যটকদের আবহাওয়া পরিস্থিতির দিকে নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে। উদ্ধার হওয়া পর্যটকদের এখন নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরার প্রক্রিয়া চলছে এবং প্রশাসন তাদের সার্বিক সহযোগিতায় নিয়োজিত রয়েছে।

এছাড়াও

চট্টগ্রাম বোর্ডে ফের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত: বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার প্রভাব

চট্টগ্রাম বোর্ডে ফের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত: বৈরী আবহাওয়া ও বন্যার প্রভাব

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চলমান বৈরী আবহাওয়া এবং বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ সকল …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *