দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চলমান বৈরী আবহাওয়া এবং বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ সকল জেলার আগামীকাল শনিবারের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এই দিন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি—এই পাঁচটি জেলার পরীক্ষার্থীরাই এই স্থগিতাদেশের আওতায় পড়বেন। নতুন পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তীতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এটি প্রথমবার নয় যে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হলো। এর আগেও গত ৮ জুলাই একই বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনস্থ সকল জেলার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। বারবার পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বোর্ডের প্রধান উদ্দেশ্য।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চল ভৌগোলিকভাবেই বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত এবং এর ফলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের তীব্রতা ও পুনরাবৃত্তি বেড়েছে। এর ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এমন একটি পরীক্ষার বারবার স্থগিত হওয়া শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে এবং তাদের প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটায়।
শিক্ষা বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, পরীক্ষক এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বোর্ডের অগ্রাধিকার। বন্যার কারণে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে, যা পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এই পরিস্থিতিতে, দূরবর্তী এলাকা থেকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হলেই স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বোর্ডের ওয়েবসাইটে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার এবং নতুন সময়সূচির জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে, যাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও শিক্ষাব্যবস্থা সচল রাখা যায়।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
