Friday , July 10 2026
Breaking News
বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি: রপ্তানি বৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন

বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বৃদ্ধি: রপ্তানি বৃদ্ধিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন

রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে দেশীয় সুতা ও কাপড় ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকার নগদ সহায়তার হার দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করেছে। বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ না করে) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়েছে। নতুন এই সুবিধা আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে, দেশীয় উৎস থেকে সুতা বা কাপড় সংগ্রহ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের এখন থেকে বর্ধিত হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে। তবে এই সুবিধা গ্রহণের জন্য রপ্তানিকারকদের অবশ্যই দেশীয় উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংক খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে, যেখানে বিস্তারিত কার্যপ্রণালী উল্লেখ থাকবে।

উল্লেখ্য, দেশের তৈরি পোশাক খাত মূলত আমদানি করা সুতা ও কাপড়ের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে স্থানীয় বস্ত্রকলগুলোর সক্ষমতা বাড়ার সাথে সাথে দেশীয় কাঁচামাল ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রবণতাকে উৎসাহিত করতে সরকার অতীতেও বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আসছিল। আড়াই বছর আগেও স্থানীয় সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হতো। কিন্তু স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এই সহায়তা কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়। ছয় মাস পর তা আরও হ্রাস পেয়ে ১.৫ শতাংশে নেমে আসে, যা রপ্তানিকারকদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছিল। উপরন্তু, এই সহায়তার ওপর রপ্তানিকারকদের ১০ শতাংশ করও পরিশোধ করতে হতো, যা কার্যকর প্রণোদনার পরিমাণকে আরও কমিয়ে দিয়েছিল।

বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ (বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন) দীর্ঘদিন ধরে এই নগদ সহায়তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিল। বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের ছয় দফা দাবি পেশ করেন। এই দাবির মধ্যে দেশীয় সুতা ব্যবহার উৎসাহিত করতে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য নগদ সহায়তা ১.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার বিষয়টি ছিল অন্যতম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও বস্ত্রকল মালিকেরা নগদ সহায়তা বৃদ্ধির দাবি তুলেছিলেন। সে সময় নীতিগতভাবে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছালেও চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। বর্তমান সরকার গঠনের পর বিটিএমএর নেতারা আবারও সরকারের সাথে দেনদরবার শুরু করেন। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে সবুজ সংকেত দেওয়ার পরই অর্থ মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশনা পাঠায়।

এই বর্ধিত নগদ সহায়তা দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্প খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি স্থানীয় বস্ত্রকলগুলোকে আরও উৎপাদনমুখী হতে উৎসাহিত করবে, যার ফলে দেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প শক্তিশালী হবে। একই সাথে, কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, যা মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সহায়ক হবে। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রেও এটি বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। এটি কেবল রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতেই নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে, এই প্রণোদনার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং এর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

দীর্ঘমেয়াদে, এই পদক্ষেপ বাংলাদেশকে এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন বাণিজ্য সুবিধা কমে আসবে, তখন অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখা অপরিহার্য। এই নগদ সহায়তা বৃদ্ধি সেই লক্ষ্য অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়াও

দেশের ৫ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে: সামান্য উন্নতি হলেও কাটেনি বন্যা শঙ্কা

দেশের ৫ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে: সামান্য উন্নতি হলেও কাটেনি বন্যা শঙ্কা

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *