Friday , July 10 2026
Breaking News
দেশের ৫ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে: সামান্য উন্নতি হলেও কাটেনি বন্যা শঙ্কা

দেশের ৫ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে: সামান্য উন্নতি হলেও কাটেনি বন্যা শঙ্কা

দেশের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও প্রধান প্রধান নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্তত পাঁচটি নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পূর্ববর্তী দিনের তুলনায় সার্বিক পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে এই চিত্র উঠে এসেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দেশের ছয়টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে ছিল। চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে তা হ্রাস পেয়ে শুক্রবার সকাল নাগাদ পাঁচটি নদীতে নেমে এসেছে। নদীর পানি কিছুটা কমলেও প্লাবিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি কমেনি। বিশেষ করে দেশের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি এখনও পানির নিচে রয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে।

আবহাওয়াবিদ ও পানি বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক দিনের বন্যা পরিস্থিতি কেমন হবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে বৃষ্টিপাতের ধরনের ওপর। বাংলাদেশ ও ভারতের উজানের রাজ্যগুলোতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হলে নদীগুলোর পানি আবারও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, বৃষ্টিপাত কমে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, তারা সার্বক্ষণিক নদীর পানির স্তর এবং দেশের অভ্যন্তরে ও উজানের আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যার কবলে পড়ে। নদীভাঙন ও আকস্মিক বন্যায় লাখ লাখ মানুষ সংকটের মুখে পড়েন। বর্তমানে যেসব নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে, সেগুলোর আশেপাশের জেলাগুলোতে যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু করলেও দুর্গম এলাকার মানুষের কাছে তা পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

বন্যার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি খাত। নিম্নাঞ্চলের রোপা আমন, আউশ ধান এবং শাকসবজির ক্ষেত দীর্ঘ সময় পানির নিচে তলিয়ে থাকায় ফসল পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে প্রান্তিক কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি এবং বন্যা পরবর্তী সময়ে বীজ ও সার সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদী বন্যা মোকাবিলায় নদী ড্রেজিং বা খনন এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের ওপর জোর দিচ্ছেন পরিবেশবিদরা। তারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অসময়ে অতিবৃষ্টি ও বন্যার প্রকোপ বাড়ছে। তাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরও আধুনিক ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এছাড়াও

পাহাড়ধসে মৃত্যুর মিছিল: চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা

পাহাড়ধসে মৃত্যুর মিছিল: চট্টগ্রাম অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে যে ভয়াবহ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *