Friday , July 10 2026
Breaking News
দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি ও বন্যা: পাহাড়ধসে ৩০ প্রাণহানি, যোগাযোগ বিপর্যস্ত

দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি ও বন্যা: পাহাড়ধসে ৩০ প্রাণহানি, যোগাযোগ বিপর্যস্ত

গত প্রায় পাঁচদিন ধরে দেশজুড়ে যে অবিরাম বর্ষণ চলছে, তাতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই টানা বৃষ্টিপাত আজ শুক্রবারও অব্যাহত রয়েছে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি আগামী শনিবার ও রবিবার পর্যন্ত চলতে পারে। এর ফলে দেশের অন্তত চারটি বিভাগে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি এবং ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড়ধসের ঘটনায় কমপক্ষে ৩০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলে পাহাড়ধসের কারণে এই প্রাণহানি ঘটেছে। সংসদ অধিবেশনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পাহাড়ধসের মাটি ও বন্যার পানিতে চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কসহ অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ও জরুরি পরিষেবাতেও প্রভাব ফেলছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি নিম্নচাপের প্রভাবে প্রথমে এই বৃষ্টিপাত শুরু হলেও, বর্তমানে মৌসুমী বায়ু অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণে এর তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমকে জানান, মৌসুমী বায়ুর এই সক্রিয়তার প্রভাব দেশের সর্বত্রই পরিলক্ষিত হচ্ছে। আজ সারাদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, এবং কিছু এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। অধিদপ্তরের সংজ্ঞানুসারে, যখন কোনো এলাকায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, তখন তাকে ভারী বৃষ্টি বলা হয়; এর বেশি হলে তাকে অতিভারী বৃষ্টি হিসেবে গণ্য করা হয়।

গত চার দিনে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায়, অর্থাৎ গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত, চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ ২১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকায় আজ সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, এবং সারাদিনই থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানান, পরিস্থিতি অনুযায়ী আজও দেশের প্রায় সর্বত্রই বৃষ্টি থাকবে, এবং খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হতে পারে।

টানা বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামসহ অন্তত ছয়টি জেলায় লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, শমসের পাড়াসহ কিছু নিচু এলাকায় এখনো পানি জমে আছে। রেলপথে পানি না কমার কারণে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের ট্রেন চলাচল আজ শুক্রবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আবু জাফর মজুমদার। খুলনার মুজগুন্নী এলাকার মতো নিচু সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীঘিনালা ও কবাখালীর মতো গ্রামীণ এলাকাগুলোতেও সড়কগুলো পানির নিচে চলে গেছে, যার ফলে স্থানীয়দের জরুরি কাজে যাতায়াত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এক ভুক্তভোগী আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “চোখের সামনে ঘরটা ভেসে গেল, অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছি।” এই ধরনের ঘটনা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা এবং মানুষের অসহায়ত্বকে তুলে ধরে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিলেও, আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন যে রবিবারও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, যদিও এর তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। এমনকি সোমবার পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের ধারা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে, এবং স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে।

এছাড়াও

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে যুগান্তকারী পদক্ষেপ: মন্ত্রিসভায় ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ এর চূড়ান্ত অনুমোদন

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে যুগান্তকারী পদক্ষেপ: মন্ত্রিসভায় ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ এর চূড়ান্ত অনুমোদন

দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সুসংহত ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *