Saturday , July 25 2026
Breaking News
মিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যা: সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণহানি, আটক ১, তীব্র উত্তেজনা

মিরপুরে যুবদল কর্মী হত্যা: সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণহানি, আটক ১, তীব্র উত্তেজনা

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় যুবদলের এক সক্রিয় কর্মী নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার গভীর রাতে মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ একজনকে আটক করেছে এবং অন্যান্য হামলাকারীদের ধরতে জোরালো তৎপরতা চালাচ্ছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবদল কর্মীর নাম ইউসুফ আলী ওরফে পারভেজ (৪৫)। তিনি মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং কাফরুল থানা যুবদলের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত। তাঁর পৈতৃক বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাকরালে। গুলিতে আহত দু’জনের মধ্যে একজন হলেন যুবদলের আরেক কর্মী মনির হোসেন (৩২) এবং অন্যজন পথচারী কাঁচামাল বিক্রেতা সালাম সরদার (৪৫)।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ইউসুফ আলী, মনির হোসেন এবং তাদের বন্ধু মো. মামুন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর সাথে মিরপুর ১৩ নম্বরে ওপেক্স গার্মেন্টসের সামনে একটি দোকানের পাশে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় চার-পাঁচজন যুবককে ওই এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। যুবকদের অস্বাভাবিক ঘোরাঘুরির কারণ জানতে চাইলে তারা হঠাৎ করে বাবুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। আকস্মিক এই হামলায় ইউসুফ, মনির এবং পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারী সালাম সরদার গুলিবিদ্ধ হন।

সহিংসতার পর দ্রুত ইউসুফকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মামুন, যিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ইউসুফের বন্ধু, গণমাধ্যমকে জানান যে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ইউসুফের মৃত্যু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. ফারুক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। হাসপাতাল সূত্র অনুযায়ী, নিহত ইউসুফের বুকে গুলি লেগেছিল। আহত মনির হোসেনের বাম পায়ে এবং পথচারী সালাম সরদারের মাথার ডান পাশে গুলি লেগেছে। বর্তমানে তাঁরা দু’জনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁদের অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এই বর্বরোচিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে হামলায় মোট চারজন দুর্বৃত্ত অংশ নিয়েছিল। ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে চঞ্চল নামের এক ব্যক্তিকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আটককৃত চঞ্চল ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে। তবে, অন্যান্য হামলাকারীরা এখনও পলাতক রয়েছে। পুলিশ তাদের ধরতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে এবং নিবিড় তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা আশা করছেন, দ্রুতই বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। এই হত্যাকাণ্ডটি ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি রাজনৈতিক কোন্দলের জের, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ ধরনের সহিংস ঘটনা রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক দলের কর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো এবং পথচারীর আহত হওয়ার ঘটনা স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। নিহত ইউসুফ আলীর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মূল কারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কিনা, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।

এছাড়াও

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে স্ত্রী-সন্তানের সামনে পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম, পিঠে ৪৩ সেলাই

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে স্ত্রী-সন্তানের সামনে পুলিশ কর্মকর্তাকে কুপিয়ে জখম, পিঠে ৪৩ সেলাই

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পরিবারের সঙ্গে কেনাকাটা শেষে বাসায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *