রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পরিবারের সঙ্গে কেনাকাটা শেষে বাসায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক কর্মকর্তা। জখম হওয়া ওই পুলিশ সদস্যের নাম ওসমান গনি, যিনি উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন শাখায় কর্মরত রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত এই পুলিশ কর্মকর্তার পিঠে চিকিৎসকেরা ৪৩টি সেলাই দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসআই ওসমান গনি পরিবারসহ মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিং এলাকায় বসবাস করেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা শেষে পায়ে হেঁটে বাসায় ফিরছিলেন। কাদেরাবাদ হাউজিংয়ের ‘সি’ ব্লকের ৪ নম্বর সড়কে পৌঁছামাত্র এক দুর্বৃত্ত পেছন থেকে এসে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর পিঠে সজোরে আঘাত করে। আকস্মিক এই হামলায় রক্তে ভেসে যান তিনি। তবে গুরুতর আহত অবস্থায়ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে আক্রমণকারীকে ধরতে পিছু ধাওয়া করেছিলেন তিনি, যদিও শেষ পর্যন্ত দুর্বৃত্তটি চতুরতার সঙ্গে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
হামলার পরপরই আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওসমান গনিকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে প্রাথমিক পরিচর্যার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে দ্রুত শেরেবাংলা নগরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন তাঁর পিঠের ক্ষত অত্যন্ত গভীর। রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে ও ক্ষতস্থান সারিয়ে তুলতে চিকিৎসকদের সেখানে ৪৩টি সেলাই দিতে হয়। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা ও সেলাই শেষে উন্নত চিকিৎসা এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা জানান, আহত পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তিনি জানান, এটি কোনো ছিনতাই বা ডাকাতির ঘটনা নয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এ হামলায় মোট তিনজন অংশ নিয়েছিল। কী কারণে এই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালানো হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে পুরো এলাকায় তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার পেছনের প্রকৃত রহস্য, ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি পেশাগত কোনো কারণে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে—সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে। সন্দেহভাজন হামলাকারীরা গ্রেপ্তার হলেই এই হামলার আসল কারণ উদ্ঘাটন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকাশ্যে জনবহুল আবাসিক এলাকায় এমন হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
