বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে ঢাকা। বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ের করা একাধিক মামলার প্রধান আসামি হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিচারের মুখোমুখি করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকেই আসাদুজ্জামান খান কামাল আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ সময় তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর তার অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়। গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে হত্যা, গুম এবং রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্ররোচনা। এসব মামলার তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিতেই তাকে দ্রুত বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার।
আন্তর্জাতিক আইন ও দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে ঢাকা। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসাদুজ্জামান খান কামাল বর্তমানে ভারতের কোথায় অবস্থান করছেন, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে তার ভূমিকা নিয়ে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। এদিকে আসাদুজ্জামান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাও বিভিন্ন আইনি জটিলতায় রয়েছেন, যা এই পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভারত সরকার এই চিঠির প্রেক্ষিতে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, তা এখন দেখার বিষয়। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে দুই দেশের পারস্পরিক অপরাধী বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তথ্য আদান-প্রদান ও হস্তান্তরের বিষয়টি দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের অংশ। তবে আসাদুজ্জামান খান কামালের মতো হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া এবং কূটনৈতিক কৌশলও সমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, অপরাধ দমনে আঞ্চলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ভারত তার দায়িত্বশীল ভূমিকার পরিচয় দেবে এবং আসাদুজ্জামান খানকে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেবে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
