সমুদ্রপথে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠার দিন শেষে স্বজনদের মাঝে ফিরছেন এমভি আব্দুল্লাহর ১৭ জন নাবিক। আরব সাগরে সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে যে উদ্বেগ ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তা এখন স্বস্তির খবরে রূপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী কাল তারা দেশে পৌঁছাবেন। জাহাজের এই নাবিকদের প্রত্যাবর্তনের খবরে তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠা কেটে গিয়ে আনন্দের আমেজ ফিরে এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে ভারত মহাসাগরে জলদস্যুদের কবলে পড়ার পর থেকে নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সারা দেশে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মহলের তৎপরতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় জাহাজটি মুক্ত হওয়ার পর নাবিকদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বিভিন্ন ধাপে নাবিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এটি ছিল সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রক্রিয়ার একটি অংশ। হরমুজ প্রণালী ও এর সংলগ্ন সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে আসার সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশের নৌ-বাহিনী সমন্বয় করেছে।
জাহাজটির মালিকপক্ষ কবির গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (কেএসআরএম) শুরু থেকেই নাবিকদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সর্বোচ্চ তৎপর ছিল। আন্তর্জাতিক বিমা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে নাবিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। নাবিকদের ফেরার অপেক্ষায় তাদের পরিবারের সদস্যরা বন্দর নগরীতে জড়ো হতে শুরু করেছেন। তাদের এই ফেরার দিনটি স্বজনদের জন্য এক আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি করবে।
এই পুরো ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জলদস্যুতার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুটগুলোতে নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন বিশ্ববাসীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ নৌ-পরিবহন অধিদফতর এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুরু থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করেছে। নাবিকরা দেশে ফেরার পর তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এমভি আব্দুল্লাহর নাবিকদের এই প্রত্যাবর্তন কেবল তাদের ব্যক্তিগত জীবনের স্বস্তিই নয়, বরং দেশের মেরিটাইম খাতের জন্যও একটি বড় শিক্ষা ও স্বস্তির বিষয়। দীর্ঘ এই প্রতিকূলতার পর নাবিকদের মানসিক ট্রমা কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিবার ও সমাজের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন প্রয়োজন। আগামীকাল বিমানবন্দর বা সংশ্লিষ্ট গন্তব্যে তাদের পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এই অধ্যায়ের ইতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
