নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আলী আহমেদ (দুলু) আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রায়পুরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, নিজের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তিনি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন যে, ১৯৮১ সাল থেকে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে পরিস্থিতির চাপে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছিলেন। তিনি নিজেকে আদর্শগতভাবে বিএনপি ঘরানার দাবি করে বাকি জীবন এই দলেই সক্রিয় থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলী আহমেদ রায়পুরা উপজেলার অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের তিনবার নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি জেলা তাঁতী লীগের সাবেক আহ্বায়ক ও রায়পুরা উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের মাধ্যমে তিনি দলে যোগ দিয়েছেন। তবে তার এই দাবি ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন নিয়ে স্থানীয় বিএনপির ভেতরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন কিছুটা ভিন্ন সুর তুলেছেন। তিনি জানান, আলী আহমেদ তার সঙ্গে দেখা করে বিএনপিতে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, তখন তাকে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার নাম ব্যবহার করে এভাবে সংবাদ সম্মেলন করাকে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেছেন। খোকন বলেন, “আওয়ামী লীগের নেতাকে দলে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আমাদের নেই, আমাদের দলের তৃণমূলের কর্মীরাই যথেষ্ট।”
এদিকে, রায়পুরা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল মামুন ভূঁইয়া এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন যে, দলের স্থানীয় কোনো শীর্ষ নেতৃত্বের অনুমতি বা সমন্বয় ছাড়া এভাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দেওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। স্থানীয় রাজনীতিতে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা সমীকরণ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনেক নেতাই পুরনো দলে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে বা নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে নিজেকে যুক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তবে স্থানীয় বিএনপির একাংশের এমন স্পষ্ট অনাগ্রহে আলী আহমেদের এই রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের বিষয়টি এখন বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
