Wednesday , July 1 2026
Breaking News
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন: বাংলাদেশ পিছিয়ে, শীর্ষে ইন্দোনেশিয়া

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন: বাংলাদেশ পিছিয়ে, শীর্ষে ইন্দোনেশিয়া

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে গত চার বছরে এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এক সময় মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী সরবরাহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তালিকার শীর্ষে থাকলেও, বর্তমানে সেই স্থান দখল করে নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল দেশটির পার্লামেন্টে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ায় মোট ৭৭ হাজার ৮০৭ জন বিদেশি কর্মী প্রবেশ করেছেন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় প্রায় ৯১ শতাংশ কম। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, মালয়েশিয়া এখন বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণমূলক নীতি অবলম্বন করছে।

২০২৩ সালে মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী আগমনের হার ছিল রেকর্ড পরিমাণ। ইমিগ্রেশন বিভাগের তথ্যমতে, সে বছর মোট ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩১ জন বিদেশি কর্মী দেশটিতে প্রবেশ করেন, যার মধ্যে প্রায় ৪৬ শতাংশ বা ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৮ জনই ছিলেন বাংলাদেশি। তবে এই বিপুল পরিমাণ কর্মী পাঠানোর আড়ালে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট, কর্মসংস্থানের সংকট এবং শ্রমিক শোষণের অভিযোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এসব নেতিবাচক প্রভাব ও অব্যবস্থাপনার কারণে ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে মালয়েশিয়া সরকার নতুন কর্মী নিয়োগে কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করে।

বর্তমানে মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ এবং প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আসা কর্মীদের মধ্যে ৪৫ শতাংশ ইন্দোনেশিয়া থেকে, ৩২.২ শতাংশ নেপাল থেকে এবং ৮ শতাংশ ভারত থেকে এসেছেন। বাংলাদেশ বর্তমানে শীর্ষ তিন উৎস দেশের তালিকার বাইরে রয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে এখন অনলাইনে কোটার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজড করার জন্য ‘তুরাপ’ (TURAP) ও ‘নাইস’ (NICE)-এর মতো নতুন প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের এই রূপান্তর সাময়িক নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী নীতিগত পরিবর্তন। ভবিষ্যতে কেবল অধিক সংখ্যক কর্মী পাঠানোর কৌশল আর কার্যকর হবে না। বাংলাদেশের জন্য এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে আনা, দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। যদি বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বেসরকারি খাত আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াকে ঢেলে সাজাতে পারে, তবেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে হারানো অবস্থান পুনরায় ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা এবং একই সঙ্গে নতুন করে গুছিয়ে ওঠার একটি সুযোগ।

এছাড়াও

হালান্ডের জাদুতে শেষ ষোলোয় নরওয়ে, প্রতিপক্ষ এবার শক্তিশালী ব্রাজিল

হালান্ডের জাদুতে শেষ ষোলোয় নরওয়ে, প্রতিপক্ষ এবার শক্তিশালী ব্রাজিল

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের লড়াইয়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে আইভরিকোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *