আট বছর বয়সী স্কুলছাত্রী রমিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ গঠনের পর পরই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সোহেল রানা চাঞ্চল্যকরভাবে ‘ডলার’ নামের এক নতুন ব্যক্তির জড়িত থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, রমিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার মূল হোতা এই ‘ডলার’।
মঙ্গলবার (১লা জুলাই ২০২৬) ঢাকার মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন এই দম্পতির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর উভয় অভিযুক্ত নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। আদালত আগামী বুধবার (২রা জুলাই ২০২৬) থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর দিন ধার্য করেছেন এবং প্রথম সাক্ষী হিসেবে নিহত রমিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লাকে তলব করা হয়েছে।
আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে সোহেল রানা চিৎকার করে বলেন, “আমি দোষী, ডলারও দোষী। আমি একা দোষী নই। আমি ধর্ষণ করিনি, শুধু দেহ টুকরো করেছি। ডলার নামের একজন ধর্ষণ করেছে। আমি পাপ করেছি, সেই পাপের শাস্তি দিন।” তিনি আরও দাবি করেন, ডলার রমিসাকে তার কাছে নিয়ে আসার জন্য তাকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে, উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাকে দ্রুত কথা বলা থেকে বিরত রাখেন। সোহেল তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকেও নির্দোষ বলে দাবি করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯শে মে পল্লবীর নিজ বাড়িতে প্রতিবেশী সোহেলের ঘর থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রমিসার শিরশ্ছেদ করা লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ২০শে মে রমিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা সোহেল, তার স্ত্রী স্বপ্না ও অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, সোহেল রমিসাকে প্রলুব্ধ করে তার ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। তদন্তকারীরা জানান, পরে সে গলা কেটে দেহ টুকরো করার চেষ্টা করে অপরাধ ঢাকার জন্য।
তদন্ত শেষে গত ২৪শে মে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওহিদ্দুজামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে সোহেল রানাকে ধর্ষণ, হত্যা এবং আলামত নষ্টের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়, আর তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে আলামত নষ্ট ও মিথ্যা তথ্য প্রদানের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। পরে সিএমএম আদালত মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল তার অপরাধ স্বীকার করলেও, আদালতে তার নতুন দাবি মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে, গত ২০শে মে সোহেল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। এই লোমহর্ষক ঘটনার জেরে ঢাকা আইনজীবী সমিতি অভিযুক্তদের আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও, একটি সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মূসা কলিমুল্লাহকে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনি সহায়তাকারী হিসেবে নিয়োগ দেয়। আগামীকালের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ‘ডলার’ নামের নতুন এই চরিত্রের আবির্ভাব মামলার ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
