ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, এই চরম আবহাওয়ার কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ১,৩০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে জার্মানিতে তাপমাত্রা ৪১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের রেকর্ড স্পর্শ করায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস এই পরিস্থিতির জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ক্রমবর্ধমান এই উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে যেভাবে ঘনঘন তাপপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে, তা মোকাবিলায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জার্মানির আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ইতিহাসে এটি অন্যতম উষ্ণতম দিন ছিল। তীব্র দাবদাহের কারণে কৃষিখাত, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। চিকিৎসকরা বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন। দাবদাহের কারণে হিট স্ট্রোক ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে ইউরোপের দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদী তাপপ্রবাহের ঝুঁকি আরও বাড়বে। কেবল ইউরোপ নয়, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের এই বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। স্থানীয় সরকারগুলো এখন জরুরি অবস্থা মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে, যাতে ভবিষ্যতের এই ধরণের বিপর্যয় থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
