আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলাকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। তালেবান প্রশাসনের দাবি, পাকিস্তানের এই হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। অন্যদিকে, ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, তারা কেবল নির্দিষ্ট জঙ্গি আস্তানাকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালনা করেছে।
আফগানিস্তানের খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশে চালানো এই হামলায় সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘আফগান ভূখণ্ডে আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফল ভালো হবে না এবং আফগানিস্তান যে কোনো পরিস্থিতির জবাব দিতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক বছর ধরেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। পাকিস্তান দীর্ঘকাল ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) সহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী আফগান ভূখণ্ডকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বারবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে। সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় সীমান্ত অঞ্চলে শান্তির সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
