মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো বিশ্ব যখন নতুন একটি যুদ্ধের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন ছিল, ঠিক তখনই দুই দেশই সাময়িকভাবে সামরিক সংঘাত থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, উভয় পক্ষই আপাতত একে অপরের ওপর সরাসরি হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে এবং কূটনৈতিক আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক আধিপত্য নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটেছিল। উভয় দেশই একে অপরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করার পর পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। তবে পর্দার আড়ালের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে বর্তমানে একটি নমনীয় অবস্থান তৈরি হয়েছে। মার্কিন সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, চলতি সপ্তাহেই উভয় দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনার টেবিলে বসতে যাচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদী সংঘাত এড়ানোর ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, তেহরান তাদের অবস্থানে অনড় থেকে হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে আলোচনার বিষয়ে ইরানও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই ‘স্ট্যান্ড ডাউন’ বা সামরিক কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্তটি কেবল একটি কৌশলগত বিরতি নয়, বরং ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের ঝুঁকি থেকে বেরিয়ে আসার একটি বাস্তবসম্মত উদ্যোগ। উভয় পক্ষই বুঝতে পেরেছে যে, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হলে তা কেবল তাদের নিজেদের অর্থনীতির জন্যই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম বিপর্যয় বয়ে আনবে।
যদিও উত্তেজনা আপাতত প্রশমিত হয়েছে, তবে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি কতটুকু টেকসই হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে আস্থার সংকট অত্যন্ত গভীর। আলোচনার টেবিলে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রক্সি যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞার মতো জটিল বিষয়গুলো কীভাবে সমাধান করা হবে, তা এখন দেখার বিষয়। আপাতত বিশ্ববাসী যুদ্ধের দামামা থেকে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে এবং কূটনীতির এই নতুন অধ্যায় সফল হবে কি না, সেদিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
