জিম্বাবুয়ের মাটিতে নাটকীয়তা আর উত্তেজনায় ঠাসা এক সিরিজের সমাপ্তি ঘটল। বুলাওয়েতে আয়োজিত তিন ম্যাচ টি-টুয়েন্টি সিরিজের শেষ ও নির্ণায়ক ম্যাচে বাংলাদেশ ৪ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে। এই জয়ের ফলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় টাইগাররা। সিরিজের শুরুর দিকে টেস্ট এবং ওয়ানডে ফরম্যাটে জিম্বাবুয়ের কাছে হারের গ্লানি থাকলেও, টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তাওহিদ হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন দলটি।
ম্যাচটিতে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লেও ব্রায়ান বেনেট এবং মায়ার্সের ব্যাটে লড়াইয়ের পুঁজি পায় দলটি। জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ১১তম ওভারে বেনেট আউট হওয়ার আগে ৩৮ বলে ৪৭ রান সংগ্রহ করেন। অন্যদিকে মায়ার্স ৩৮ বলে ফিফটি তুলে নিলেও শেষ দিকে রানের গতি ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। তাসকিন আহমেদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ ওভারে মাত্র ৬ রান খরচ করলে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৪৪ রানের বেশি করতে পারেনি। বেনেট ও মায়ার্স ছাড়া অন্য কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি, যা স্বাগতিকদের ব্যাটিং দুর্বলতাকেই স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।
১৪৫ রানের জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটাও ছিল নড়বড়ে। প্রথম ওভারেই সাইফ হাসান ফিরে গেলে চাপে পড়ে সফরকারীরা। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৩০ রান সংগ্রহ করা বাংলাদেশ বেশ ধীরগতির ব্যাটিংয়ে ভুগছিল। তবে তানজিদ হাসান এবং পারভেজ হোসেন ইমনের ৪৭ বলে ৫৫ রানের জুটি দলকে ম্যাচে ফেরায়। সিকান্দার রাজার বলে পারভেজ আউট হওয়ার পর তানজিদ এবং অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় দলের হাল ধরেন। তাদের ৬৩ রানের পার্টনারশিপ ম্যাচটিকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়।
ম্যাচের শেষ ওভারটি ছিল সত্যিকারের স্নায়ুচাপের। জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫ রান এবং হাতে ছিল ৬ উইকেট। কিন্তু ব্রাড ইভান্সের ওভারের শুরুতেই উইকেট পতন শুরু হয়। মোসাদ্দেক হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন দ্রুত আউট হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। চতুর্থ বলের সময় ফিল্ডারদের নড়াচড়ায় আম্পায়ার ‘ডেড বল’ ঘোষণা করেন, যা নিয়ে মাঠে ইভান্স ও তানজিদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে মেহেদী হাসানের অনবদ্য বাউন্ডারিতে বাংলাদেশ ২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে। ওপেনার তানজিদ হাসান ৫৮ বলে ৬৬ রান করে অপরাজিত থেকে ম্যাচসেরা হন। এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর এক বড় সুযোগ কাজে লাগাল।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
