ফুটবল বিশ্বের বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত বিষয় লিওনেল মেসি এবং লামিনে ইয়ামালের সেই পুরোনো ঐতিহাসিক ছবিটি। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এই ছবিতে দেখা যায়, ২০ বছর বয়সী তরুণ মেসি একটি প্লাস্টিকের বাথটাবে ছয় মাস বয়সী শিশু ইয়ামালকে পরম মমতায় গোসল করাচ্ছেন। আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও, এই ছবির পেছনে লুকিয়ে আছে এক চমৎকার কাকতালীয় ঘটনা। ২০০৭ সালে স্প্যানিশ পত্রিকা ‘দিয়ারিও স্পোর্ত’ এবং ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বার্সেলোনার ফুটবলারদের নিয়ে একটি চ্যারিটি ক্যালেন্ডার তৈরির আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ক্যালেন্ডারের জন্য লটারির মাধ্যমে সাধারণ পরিবারগুলোকে সুযোগ দেওয়া হয়, যার মধ্যে ইয়ামালের পরিবার ছিল অন্যতম ভাগ্যবান।
মাতারো শহরের বাসিন্দা ইয়ামালের পরিবার যখন এই লটারি জেতে, তারা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেনি যে তাদের সেই শিশু সন্তান একদিন বিশ্বের ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হয়ে উঠবে এবং খোদ লিওনেল মেসির প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবে। ফটোগ্রাফার হুয়ান মনফোর্তর ক্যামেরায় বন্দি হওয়া সেই মুহূর্তটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। ২০ বছর বয়সী লাজুক মেসি এবং ছয় মাস বয়সী শিশু ইয়ামাল—উভয়েই একে অপরের কাছে ছিলেন অপরিচিত। তবে ইয়ামালের মায়ের উপস্থিতিতে সেই জড়তা কেটে যায় এবং কালজয়ী এই ফ্রেমটি তৈরি হয়। সেই সময় ইউনিসেফের তহবিলের জন্য আয়োজিত এই ফটোশুটের গুরুত্ব তৎকালীন সময়ে এতটা প্রকট ছিল না।
২০২৪ সালের ইউরো কাপ চলাকালীন ইয়ামালের বাবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি শেয়ার করার পর মুহূর্তেই তা বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়ে যায়। দুই প্রজন্মের দুই মহাতারকার এই মিলনদৃশ্য যেন ফুটবলের ইতিহাসে এক অপূর্ব সংযোগ। আজকের প্রেক্ষাপটে, ইয়ামাল যখন বার্সেলোনার ‘লা মাসিয়া’ একাডেমি থেকে উঠে এসে বিশ্বমঞ্চে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন, তখন ফুটবলপ্রেমীরা সেই পুরোনো দিনের স্মৃতিরোমন্থন করছেন। মেসি এবং ইয়ামালের এই গল্প কেবল একটি ছবি নয়, বরং এটি ফুটবলীয় ঐতিহ্যের এক বিরল উপাখ্যান, যেখানে ভাগ্য আর প্রতিভা মিলেমিশে একাকার হয়েছে। দুই কিংবদন্তির পথচলার এই শুরুটা আজও ক্রীড়ামোদীদের মনে শিহরণ জাগায়।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
