Wednesday , July 15 2026
Breaking News
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: বিজ্ঞান বিষয়ের কোষ বিভাজন অধ্যায়ের বিশেষ প্রস্তুতি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬: বিজ্ঞান বিষয়ের কোষ বিভাজন অধ্যায়ের বিশেষ প্রস্তুতি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর

ঢাকা — দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মেধা অন্বেষণ ও তাদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬-এর প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘কোষ বিভাজন’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই অধ্যায় থেকে প্রতি বছরই বেশ কিছু জটিল ও বিশ্লেষণধর্মী প্রশ্ন এসে থাকে। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিকে আরও সহজ, প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ করতে ঢাকার মতিঝিলস্থ বাংলাদেশ ব্যাংক উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. ফারুক হোসেন কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর ও বিশেষ দিকনির্দেশনা শেয়ার করেছেন।

কোষ বিভাজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মাইটোসিসের মেটাফেজ পর্যায়। শিক্ষক ফারুক হোসেনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোষ বিভাজনের এই নির্দিষ্ট ধাপে নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোমগুলো সবচেয়ে বেশি খাটো ও মোটা আকার ধারণ করে। এ সময় ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডল যন্ত্রের ঠিক মাঝখানে বা বিষুবীয় অঞ্চলে অবস্থান নেয় এবং তন্তুর সাহায্যে সেন্ট্রোমিয়ারের সাথে যুক্ত থাকে। এই কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণেই মেটাফেজ ধাপে ক্রোমোজোমগুলোকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে সবচেয়ে স্পষ্ট ও স্থূল দেখায়।

শিক্ষার্থীদের প্রায়শই মাইটোসিস বিভাজনের প্রথম ও শেষ ধাপ, অর্থাৎ প্রোফেজ ও টেলোফেজ দশার মধ্যে গুলিয়ে ফেলতে দেখা যায়। এ বিষয়ে বিস্তারিত পার্থক্য তুলে ধরে তিনি জানান, প্রোফেজ হলো কোষ বিভাজনের সূচনা পর্ব এবং টেলোফেজ হলো এর চূড়ান্ত বা সমাপ্তি পর্ব। এই দুটি দশার মধ্যে মূলত সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। প্রোফেজ দশায় ক্রোমোজোম থেকে ক্রমাগত পানি হ্রাস পেতে থাকে, যার ফলে এগুলো সংকুচিত হয়ে ক্রমশ খাটো ও মোটা হতে শুরু করে। একই সাথে এই ধাপে নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার মেমব্রেন বা পর্দার বিলুপ্তি ঘটতে দেখা যায়। এর ঠিক বিপরীতে, টেলোফেজ দশায় ক্রোমোজোমগুলো পুনরায় পানি শোষণ করে প্রসারিত ও লম্বা হতে থাকে। এই শেষ ধাপে এসে বিলুপ্ত হওয়া নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার মেমব্রেন আবার দৃশ্যমান বা আবির্ভূত হয়।

এছাড়া পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য মাইটোসিস ও মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মৌলিক পার্থক্যগুলো জানা আবশ্যক। জীবদেহের দৈহিক বৃদ্ধির জন্য মাইটোসিস বিভাজন অপরিহার্য, যা মূলত উদ্ভিদের বর্ধনশীল অংশ বা প্রাণীর দৈহিক কোষে ঘটে থাকে। এই বিভাজনের ফলে একটি মাতৃকোষ বিভক্ত হয়ে সমগুণসম্পন্ন দুটি অপত্য (নতুন) কোষের সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, জীবের বংশবৃদ্ধি ও জনন প্রক্রিয়ার জন্য মিয়োসিস বিভাজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রধানত জীবের জনন মাতৃকোষে সংঘটিত হয় এবং এই প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষ বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে, যেখানে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের তুলনায় অর্ধেক হয়ে যায়।

কোষ বিভাজন জীববিজ্ঞানের একটি মৌলিক প্রক্রিয়া। এটি ছাড়া কোনো জীবের বৃদ্ধি বা বংশবৃদ্ধি সম্ভব নয়। এককোষী জীব থেকে শুরু করে বহুকোষী বিশাল আকৃতির উদ্ভিদ ও প্রাণী—সবার ক্ষেত্রেই কোষ বিভাজন অপরিহার্য। জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় এই অধ্যায় থেকে বহুনির্বাচনী (MCQ) এবং সৃজনশীল বা সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্ন প্রায় প্রতি বছরই আসে। তাই প্রতিটি ধাপের চিত্রসহ প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সরকারিভাবে আর্থিক অনুদান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে। সাধারণত বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক বৃত্তি ও বছরে এককালীন বই ক্রয়ের জন্য অনুদান পেয়ে থাকে, যা তাদের উচ্চশিক্ষার পথকে সুগম করে। তাই বিজ্ঞান বিষয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভালো করতে হলে মুখস্থ করার চেয়ে প্রতিটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও চিত্রসহ ধাপগুলো বুঝে পড়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন শিক্ষাবিদরা। নিয়মিত অনুশীলন ও সঠিক নির্দেশনাই শিক্ষার্থীদের এই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।

এছাড়াও

শিক্ষাব্যবস্থায় অস্থিরতা: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দেশ

শিক্ষাব্যবস্থায় অস্থিরতা: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দেশ

বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *