কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির এই যুগে এবার চিকিৎসা বিজ্ঞানের জটিল গবেষণায় বিপ্লব ঘটাতে উদ্যোগী হয়েছেন ওপেনএআই-এর অন্যতম শীর্ষ গবেষক মাইলস ওয়াং। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাইলস ওয়াং বর্তমানে একটি নতুন এআই-চালিত ড্রাগ ডিসকভারি বা ওষুধ আবিষ্কারক স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠার জন্য বিনিয়োগকারীদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই উদ্যোগটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে ওপেনএআই-এর গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সাথে যুক্ত থাকা মাইলস ওয়াং এখন তার মেধা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ ঘটাতে চান। প্রচলিত পদ্ধতিতে নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। একটি নতুন ওষুধ তৈরি করতে প্রায় এক দশকের বেশি সময় এবং বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হয়। ওয়াংয়ের এই প্রস্তাবিত স্টার্টআপটি মূলত জেনারেটিভ এআই এবং মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম ব্যবহার করে ওষুধের আণবিক গঠন বিশ্লেষণ করবে এবং দ্রুততম সময়ে কার্যকর সংমিশ্রণ খুঁজে বের করবে। এতে করে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের গবেষণা ও উৎপাদন প্রক্রিয়া কয়েক গুণ দ্রুততর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের এই আগ্রহের পেছনে মূলত লাইফ সায়েন্স বা জীবন বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এআই-এর বিশাল সম্ভাবনা কাজ করছে। বিশ্বজুড়ে বড় বড় ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টরা এখন এমন সব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছেন, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে জটিল রোগের নিরাময় বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর সমাধান দিতে পারবে। মাইলস ওয়াংয়ের এই প্রকল্পটি সফল হলে তা কেবল ওষুধ শিল্প নয়, বরং সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। ক্যান্সার, আলঝেইমার্স বা বিরল সব রোগের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখাতে পারে এই উদ্যোগ।
তবে এই ধরনের উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ডেটা প্রাইভেসি, নৈতিকতা এবং ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের কঠোর নিয়মনীতি মেনে এআই মডেলগুলোকে নিখুঁতভাবে তৈরি করা একটি বড় পরীক্ষা। মাইলস ওয়াংয়ের পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং ওপেনএআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার দক্ষতা তাকে এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এগিয়ে রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। যদি এই ২ বিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ সফল হয়, তবে এটি এআই এবং বায়োটেক খাতের সমন্বয়ে একটি নতুন যুগের সূচনা করবে। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই বিশাল বিনিয়োগের খবরটি প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ এখন কেবল চ্যাটবট বা ইমেজ জেনারেটরে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা মানুষের জীবন বাঁচাতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
