গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এমএসএমই দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যদি দেশে ফেরেন, তবে তা কেবল তার বিরুদ্ধে দেওয়া ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্যই হতে হবে। বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে দেশ যে ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়েছে, তার বিচারিক প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা বা তাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি একান্তই বাংলাদেশ সরকারের এখতিয়ার। এটি কোনোভাবেই শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে না। সরকার কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করবে—এটিই এখন সময়ের দাবি। তিনি মনে করেন, দিল্লির সাথে সরকারের কার্যকর আলোচনার মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া উচিত। কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা বা অস্পষ্টতা না রেখে যথাযথ আইনি প্রস্তুতি নিয়ে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোই দেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার একমাত্র পথ।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তাদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, দলটি এখন দিল্লির নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। শেখ হাসিনা নিজের দলের নেতা-কর্মীদের বিপদের মুখে ফেলে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, যা তার রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৈন্যদশা প্রকাশ করে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতি রক্ষায় যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। যদি সরকার কোনোভাবে আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে প্রশ্রয় দেয়, তবে তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই রায় বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ট্রাইব্যুনালের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তুলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো কার্যকর প্রতিক্রিয়া না আসায় তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন। সবশেষে, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, জুলাই বিপ্লবের চেতনা রক্ষায় প্রতিটি অপরাধের সঠিক ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার কোনো বিকল্প নেই।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
