যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপনকে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং ব্যক্তিগত প্রকল্পের স্বার্থে ‘দখল’ করার চেষ্টা করেছেন বলে একটি কংগ্রেসীয় প্রতিবেদনে গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। হাউস ডেমোক্র্যাটরা দাবি করেছেন যে ট্রাম্প-সমর্থিত একটি সংস্থা ‘ফ্রিডম ২৫০’ দাতাদের বিভ্রান্ত করেছে এবং এই উদযাপনের আয়োজনে যুক্ত ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের দ্বারা পরিচালিত সংস্থাগুলোর ফি নিয়ে অস্বচ্ছতা রয়েছে। এই অভিযোগগুলো আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মাইলফলককে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করার প্রচেষ্টার উপর গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
২০২৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে, যা জাতির ইতিহাসে এক অনন্য সাধারণ মুহূর্ত। এই উদযাপনটি মূলত আমেরিকান মূল্যবোধ, ইতিহাস এবং জনগণের অর্জনকে স্মরণ ও সম্মান জানানোর জন্য পরিকল্পিত। একটি নিরপেক্ষ ও অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই আয়োজনকে দেখা হয়, যেখানে দল-মত নির্বিশেষে সকল আমেরিকান তাদের জাতীয় পরিচয়কে উদযাপন করতে পারে। তবে, সম্প্রতি প্রকাশিত কংগ্রেসীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার সহযোগীরা এই ঐতিহাসিক ইভেন্টের পবিত্রতা নষ্ট করে এটিকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা এবং ব্যক্তিগত স্বার্থ সিদ্ধির জন্য ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন।
প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে যে, কীভাবে ট্রাম্প প্রশাসন ‘আমেরিকা ২৫০’ উদযাপন কমিশনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কমিশনকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্বারা পূর্ণ করা হয়েছিল। এর ফলে, উদযাপনের মূল লক্ষ্য থেকে সরে এসে এটি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আখ্যান প্রচারের মঞ্চে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। হাউস ডেমোক্র্যাটরা আরও অভিযোগ করেছেন যে, প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের সমর্থিত ‘ফ্রিডম ২৫০’ নামক একটি সংস্থা দাতাদের কাছে তহবিল সংগ্রহের সময় উদযাপনের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে, যা দাতাদের বিশ্বাসভঙ্গের শামিল।
অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার অভাবও এই বিতর্কের একটি বড় অংশ। নিউইয়র্ক টাইমস এবং ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের দ্বারা পরিচালিত একটি সংস্থাকে ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে, এই সংস্থাটির পরিষেবা বাবদ কী পরিমাণ ফি নেওয়া হচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে অস্বচ্ছ এবং অস্পষ্ট রাখা হয়েছে। এই ধরনের অস্বচ্ছ আর্থিক লেনদেন জনমনে প্রশ্ন তুলেছে যে, জনসাধারণের তহবিল এবং দাতাদের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা, নাকি তা ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপচয় করা হচ্ছে।
কংগ্রেসীয় প্রতিবেদনে উত্থাপিত এই অভিযোগগুলো মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকরা বলছেন যে, একটি দেশের জাতীয় বার্ষিকী উদযাপনকে রাজনৈতিকীকরণ করা হলে তা জাতীয় ঐক্য ও সংহতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে, যখন এই উদযাপনটি জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন করার একটি সুযোগ, তখন এর নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। দ্য গার্ডিয়ান সহ অন্যান্য প্রখ্যাত সংবাদমাধ্যম এই বিষয়টিকে ‘ট্রাম্পের এজেন্ডা পূরণের জন্য মার্কিন বার্ষিকী দখলের’ প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এই অভিযোগগুলো প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তার ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে প্রভাবিত করার পূর্ববর্তী অভিযোগগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদিও ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করা হতে পারে, তবে কংগ্রেসীয় প্রতিবেদন এবং হাউস ডেমোক্র্যাটদের দাবিগুলো একটি গভীর তদন্তের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। এটি শুধুমাত্র ২৫০তম বার্ষিকীর উদযাপনের ভবিষ্যতকেই প্রভাবিত করবে না, বরং মার্কিন রাজনীতিতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করবে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
