Sunday , July 26 2026
Breaking News
৩৬ দিন সাগরে ভেসে, ২৯ দিন কাঁচা মাছ খেয়ে: শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলের রোমহর্ষক উদ্ধার ও পুলিশি জিম্মা

৩৬ দিন সাগরে ভেসে, ২৯ দিন কাঁচা মাছ খেয়ে: শ্রীলঙ্কান বাবা-ছেলের রোমহর্ষক উদ্ধার ও পুলিশি জিম্মা

বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশির বুকে টানা ৩৬ দিন ধরে ভেসে থাকার পর অলৌকিকভাবে উদ্ধার হয়েছেন শ্রীলঙ্কার দুই জেলে, সম্পর্কে যারা বাবা-ছেলে। এই অবিশ্বাস্য যাত্রায় ২৯ দিন ধরে তারা শুধু কাঁচা মাছ খেয়ে জীবন ধারণ করেছেন। কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলের অদূরে তাদের ভাসমান ট্রলারটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করে। বর্তমানে এই দুই শ্রীলঙ্কান নাগরিক বাংলাদেশের মহেশখালী থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

জানা যায়, শ্রীলঙ্কার ডেভিনুয়ারা এলাকার রুরাল হসপিটাল রোডের বাসিন্দা এস.এইচ. চামিন্দা এবং তার ছেলে সাউন্ডা হান্নাদিগিপিয়াওয়াটিং প্রায় ৩৬ দিন পূর্বে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে যাত্রা করেছিলেন। তাদের সাথে আরও দুজন জেলে ছিলেন। কিন্তু সাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায় এবং এটি আন্দামান সাগরের দিকে ভেসে যেতে শুরু করে। তিন দিন পর, সৌভাগ্যবশত অন্য একটি নৌকার সাহায্যে অপর দুই জেলে শ্রীলঙ্কার উপকূলে ফিরে যেতে সক্ষম হন। তবে নিজেদের মালিকানাধীন ট্রলার হওয়ায় চামিন্দা ও তার ছেলে সেখানেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা তাদের দীর্ঘ ও বিপজ্জনক যাত্রার সূচনা করে।

যাত্রা শুরুর প্রায় সাত-আট দিন পর তাদের ভাসমান ট্রলারে একদল মিয়ানমারের লোক উঠে আসে। তারা জোরপূর্বক ট্রলার থেকে দূরবিন, ক্যামেরাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর বাবা-ছেলে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তাদের মজুত করা খাবার যাত্রা শুরুর সাত দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। এরপর টানা ২৯ দিন ধরে তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ছিল বড়শির টোপ হিসেবে রাখা ক্ষুদ্র খাবার এবং সাগর থেকে ধরা কাঁচা মাছ। চরম প্রতিকূলতা ও ক্ষুধার সঙ্গে লড়াই করে তারা গভীর সমুদ্রে ভাসতে থাকেন।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে একসময় তাদের ইঞ্জিন বিকল ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরের মহেশখালী উপকূলের কাছাকাছি এসে পৌঁছায়। গত বুধবার রাতে গভীর সাগর থেকে মাছ ধরে ফিরছিলেন স্থানীয় জেলে জিয়াউর রহমান। তার চোখে পড়ে সমুদ্রে ভাসমান একটি ট্রলার। কৌতূহলবশত কাছে গিয়ে তিনি দেখতে পান, ট্রলারে দুজন মানুষ অর্ধমৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত নাজুক। চামিন্দা ও সাউন্ডা জিয়াউর রহমানের কাছে হাতজোড় করে জীবন বাঁচানোর আকুতি জানান। মানবিক কারণে জিয়াউর রহমান দেরি না করে তাদের নিজেদের ট্রলারে তুলে নেন এবং রশি দিয়ে বিকল ট্রলারটি বেঁধে শুক্রবার রাতে মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের তাজিয়াকাটা ঘাটে নিয়ে আসেন।

উদ্ধারের পর থেকে শ্রীলঙ্কার এই দুই জেলে কুতুবজোম ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা এবং ট্রলারের মালিক জিয়াউর রহমানের বাড়িতে আশ্রয় পেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের ভাষা বুঝতে সমস্যা হওয়ায় তাৎক্ষণিক পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, জিয়াউর রহমানের দুবাইপ্রবাসী আত্মীয় সেলিমের মাধ্যমে, যিনি শ্রীলঙ্কান ভাষা কিছুটা বোঝেন, তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানা যায়। শনিবার রাতে মহেশখালী থানা পুলিশ বাবা ও ছেলেকে তাদের হেফাজতে নেয়।

মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুস সুলতান জানান, উদ্ধার হওয়া দুই জেলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত একটি সমাধানের আশা করা হচ্ছে। পুলিশ তাদের ট্রলারটিও জব্দ করেছে। তিনি আরও জানান, ইশারায় নিজেদের পরিচয় দেওয়ার পর দুই শ্রীলঙ্কান নাগরিক দ্রুত দেশে ফিরে যাওয়ার এবং নিজেদের নৌকাটিও ফেরত পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন। তবে উদ্ধারকারী ট্রলারের মালিক জিয়াউর রহমান জানিয়েছেন, মহেশখালী থেকে উত্তাল সাগর পাড়ি দিয়ে এই ছোট নৌকায় এতদূর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনা সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের জীবনের ঝুঁকি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে তাদের অসহায়ত্বের এক করুণ চিত্র তুলে ধরেছে।

এছাড়াও

সিরাজগঞ্জে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার ও ৫ জনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা

সিরাজগঞ্জে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপি নেতা বহিষ্কার ও ৫ জনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মিজানুর বাবলুকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *