সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী মিজানুর বাবলুকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে দলের আদর্শ ও নীতি পরিপন্থী বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলায় আরও পাঁচজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে জেলা বিএনপি। গত শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক তানভীর মাহমুদ পলাশ স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বেশ কিছুদিন ধরে কাজিপুর উপজেলায় বিএনপির একটি অংশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগ উঠছিল। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে স্থানীয় সাধারণ কর্মী ও নির্যাতিত মানুষের পক্ষ থেকে জেলা নেতৃত্বের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দলের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে জেলা বিএনপি।
বহিষ্কৃত নেতা হাজী মিজানুর রহমান বাবলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী বিভিন্ন অপকর্মের অভিযোগ ছিল। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, তার এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো সংগঠনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় অনুশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে যারা এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
হাজী মিজানুর বাবলুর পাশাপাশি যাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা এসেছে, তারা হলেন— কাজীপুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঞ্জুর রশিদ রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান আতিক, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ সরকার এবং মাইজবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিষ্টার। অভিযুক্ত এই পাঁচ নেতার কর্মকাণ্ডেও দলীয় নীতি লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে জেলা কমিটি।
জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদ এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান সহযোগিতাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে এই নির্দেশনা অনুমোদন করেছেন। দলীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, তৃণমূল পর্যায়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দলের ভেতর লুকিয়ে থাকা দুর্বৃত্তদের নির্মূল করতে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, কারণ বিগত দিনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির যে প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, তা রোধে এ ধরনের অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির এই কঠোর বার্তার পর স্থানীয় অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরণের থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং অনেকেই সাবধানী ভূমিকা পালন শুরু করেছেন।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
