আদালতের রায়ে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এক আসামিকে ধরতে অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ। পুলিশের পোশাকের পরিবর্তে লুঙ্গি পরে ও খালি গায়ে কৃষকের ছদ্মবেশ ধারণ করে ফসলের মাঠে অভিযান চালিয়ে সুশীল নামের ওই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফরহাদ হোসেনের নেতৃত্বে এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সুশীল নাচোল উপজেলার রাজবাড়ী হাট টাওয়ারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম দায়রা জজ আদালত-(২) তাঁকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে আদালত তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। কিন্তু রায় ঘোষণার সময় থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সুশীল। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি পুলিশের নাগালের বাইরে ছিলেন।
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, আদালতের সাজা ঘোষণার পর থেকেই পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ। কিন্তু সুশীল অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করায় তাকে সহজে ধরতে পারা যাচ্ছিল না। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, সাজাপ্রাপ্ত এই আসামি ছদ্মবেশে পাশের জেলা নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রাওতা গ্রামের একটি ফসলি মাঠে কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।
এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর এএসআই ফরহাদ হোসেন একদল পুলিশ সদস্য নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক কৌশল সাজান। পুলিশ সদস্যদের একটি দলকে স্থানীয় বাজারের কাছাকাছি অবস্থানে রাখা হয়, যাতে আসামি টের পেয়ে পালিয়ে যেতে না পারে। অন্যদিকে, এএসআই ফরহাদ নিজে লুঙ্গি পরে ও গায়ে কোনো কাপড় না রেখে সম্পূর্ণ একজন সাধারণ কৃষকের রূপ ধারণ করেন। স্থানীয় কৃষকদের মতো করেই তিনি ধীরেসুস্থে ওই ফসলের মাঠের দিকে হেঁটে এগিয়ে যান।
অভিযানের বর্ণনা দিয়ে এএসআই ফরহাদ হোসেন বলেন, এর আগেও সুশীলকে ধরতে তিন দফা অভিযান চালানো হয়েছিল, কিন্তু প্রতিবারই তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এবার যাতে আর ব্যর্থ হতে না হয়, সেজন্য তিনি নিজেই কৃষকের বেশে মাঠের ভেতরে প্রবেশ করেন। একেবারে কাছাকাছি চলে যাওয়ার পর সুশীল বিষয়টি কিছুটা আঁচ করতে পেরে দৌড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে তাৎক্ষণিক সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে ধাওয়া করে তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন অভিনব ও সফল অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর গ্রেপ্তারকৃত সুশীলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপরাধী যত চালাকই হোক না কেন, আইনের হাত থেকে পালানোর কোনো সুযোগ নেই—এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
