ক্যাথলিক খ্রিস্টধর্মের অভ্যন্তরীণ ইতিহাসে ‘সোসাইটি অফ সেন্ট পাইস এক্স’ (SSPX) এক বিতর্কিত নাম। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই সংগঠনটি ভ্যাটিকানের সঙ্গে আদর্শিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত রয়েছে। মূলত ঐতিহ্যবাদী এই গোষ্ঠীটি ১৯৬০-এর দশকে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ভ্যাটিকান কাউন্সিলের সংস্কারের ঘোর বিরোধী। তাদের দাবি, আধুনিকীকরণের নামে চার্চ তার মৌলিক ঐতিহ্য ও বিশ্বাস থেকে বিচ্যুত হচ্ছে। এই মতপার্থক্যই শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গে ক্যাথলিক চার্চের মূলধারার চূড়ান্ত বিচ্ছেদের পথ তৈরি করে।
ফরাসি আর্চবিশপ মার্সেল লেফেভরে ১৯৭০ সালে এই সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। লেফেভরের নেতৃত্বে দলটি ল্যাটিন ভাষায় প্রথাগত গণপ্রার্থনা বা ‘ট্র্যাডিশনাল ল্যাটিন মাস’ পরিচালনার ওপর জোর দেয়। তবে সমস্যাটি তখনই জটিল আকার ধারণ করে যখন ১৯৮৮ সালে পোপের অনুমতি ছাড়াই লেফেভরে চারজন বিশপকে অভিষিক্ত করেন। পোপের সরাসরি নির্দেশ অমান্য করে এই পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ভ্যাটিকান কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং লেফেভরেসহ সংশ্লিষ্ট বিশপদের ওপর ধর্মচ্যুতির (Excommunication) নির্দেশ জারি করা হয়। এটি ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাসে একটি বড় ধরনের সংকট হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
পরবর্তী বছরগুলোতে ভ্যাটিকান এবং সোসাইটির মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন সময়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পোপ বেনেডিক্ট ষোড়শ এবং পোপ ফ্রান্সিসের শাসনামলে এই বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। কিছু ক্ষেত্রে তাদের ওপর থেকে শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলেও, মতাদর্শিক অটল অবস্থানের কারণে পূর্ণ মিলন আজও অধরা রয়ে গেছে। তারা আধুনিক উদারনৈতিক চিন্তা ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপের মতো বিষয়গুলোকে সন্দেহের চোখে দেখে থাকে।
বর্তমানে এই গোষ্ঠীটি বিশ্বজুড়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং নিজস্ব সেমিনার ও গির্জা নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। ক্যাথলিক ধর্মতত্ত্বের রক্ষণশীল অনুসারীদের একটি অংশ এখনো তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। তবে ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষের মতে, চার্চের ঐক্যের স্বার্থে এবং পোপের কর্তৃত্বের প্রতি আনুগত্যের প্রশ্নে কোনো আপস সম্ভব নয়। সোসাইটি অফ সেন্ট পাইস এক্সের এই বিচ্ছেদ কেবল একটি প্রশাসনিক বিভাজন নয়, বরং এটি ক্যাথলিক চার্চের আধুনিকায়ন বনাম রক্ষণশীলতার দীর্ঘস্থায়ী লড়াইয়ের একটি প্রতিচ্ছবি। এই সংকটের সমাধান এখনো বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের কাছে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
