যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক চিত্র নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। প্রকাশিত জুন মাসের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন অর্থনীতিতে চাকরির সুযোগ তৈরির গতি আগের চেয়ে অনেকটা কমে এসেছে। পরিসংখ্যান বলছে, আলোচ্য মাসে মাত্র ৫৭ হাজার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, যা বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার তুলনায় বেশ কম। একই সঙ্গে দেশটিতে বেকারত্বের হার ৪.২ শতাংশে অবস্থান করছে। দীর্ঘ সময় ধরে চাঙ্গা থাকা মার্কিন শ্রমবাজার এখন কিছুটা নমনীয় হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিভিন্ন মহলে এই প্রতিবেদন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফক্স বিজনেসের মতো সংবাদমাধ্যমে গ্যারি কাল্টবাউমের মতো বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে ‘সাধারণ বা সাদামাটা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ কমে যাওয়া এবং চাকরির বাজার শীতল হয়ে আসা অর্থনীতির জন্য একটি সতর্কবার্তা হতে পারে। অন্যদিকে, সিএনএন এবং এবিসি নিউজের প্রতিবেদনে শ্রমবাজারের এই মন্থর গতিকে ‘স্থিতিশীল কিন্তু শক্তিশালী নয়’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। যদিও নিয়োগের হার প্রত্যাশার চেয়ে কম, তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মার্কিন শ্রমবাজার এখনো একটি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বজায় রয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি শ্রমবাজারের ওপর পড়ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির এই ধীরগতি দেশটির সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর কতটা দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। গত কয়েক বছর ধরে মার্কিন শ্রমবাজার যে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছিল, জুনের এই প্রতিবেদন সেই গতিপথ কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এটি বড় ধরনের মন্দার পূর্বাভাস কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও কয়েক মাসের তথ্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সামগ্রিকভাবে, মার্কিন অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এখন এই শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
