যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের আর্থিক লেনদেন ও বিনিয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুল্ক বা ট্যারিফ সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তনের ঠিক আগমুহূর্তে অ্যাপল, এনভিডিয়া এবং অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনেছেন তিনি। সিএনবিসি ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের মতো প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত পোর্টফোলিও থেকে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যার বড় একটি অংশই প্রযুক্তি খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প যখনই কোনো নতুন শুল্ক নীতি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করছেন, তার ঠিক কাছাকাছি সময়েই তার মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রিত পোর্টফোলিওতে বড় ধরনের শেয়ার কেনাবেচার ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে, শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ঠিক একদিন আগে ৩২৭টি শেয়ার লেনদেনের বিষয়টি সামনে এসেছে, যা মার্কিন রাজনীতি ও ব্যবসায়িক নীতিমালার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সমালোচকদের মতে, নীতি নির্ধারণী ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির এই প্রবণতা স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) তৈরি করছে।
যদিও ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এই লেনদেনগুলোকে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, তবে বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের একাংশ একে ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’-এর ছায়াসুলভ আচরণ বলে মনে করছেন। কারণ, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার যেকোনো ঘোষণা সরাসরি শেয়ার বাজারের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে সক্ষম। বিশেষ করে এনভিডিয়ার মতো কোম্পানির ক্ষেত্রে, যেখানে এআই চিপের চাহিদা আকাশচুম্বী, সেখানে ট্রাম্পের নীতিগত অবস্থান শেয়ারের দামকে তাৎক্ষণিক প্রভাবিত করছে।
উল্লেখ্য যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই শেয়ার লেনদেনের বিষয়টি এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এল যখন বিশ্বের অর্থনৈতিক বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর আগে তার মালিকানাধীন মিডিয়া স্টক নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল, যেখানে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলা কমিয়ে দিলেও গোপনে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ঘটনা মার্কিন রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দাবিকে আরও জোরালো করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক স্বার্থের এই সমীকরণ আগামী দিনে তার প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
