তামিলনাড়ুতে গরু জবাইয়ের ওপর মাদ্রাজ হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। সম্প্রতি মাদ্রাজ হাইকোর্ট রাজ্যের সর্বত্র গরু জবাইয়ের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, তাকে ১৯৫৮ সালের ‘তামিলনাড়ু পশু সংরক্ষণ আইন’-এর পরিপন্থী দাবি করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে। সরকারের যুক্তি, বিদ্যমান আইনে ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কৃষিকাজের অনুপযুক্ত গরু জবাইয়ের আইনি বৈধতা রয়েছে। অথচ হাইকোর্ট সেই আইনি সীমানা অতিক্রম করে ঢালাও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন, যা প্রশাসনিক ও আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মামলার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোয়েম্বাটুরে ঈদুল আজহার সময় প্রকাশ্য স্থানে পশু কোরবানি বন্ধের দাবিতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত সেই আবেদনের পরিধি ছাড়িয়ে পুরো রাজ্যে গরু জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সরকারের দাবি, মূল আবেদনে এমন কোনো দাবি করা হয়নি, অথচ আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যে রায় দিয়েছে তা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও প্রচলিত আইনের বিরোধী। এই আদেশের ফলে শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদুল আজহার কোরবানিই নয়, বরং তামিলনাড়ুর বিভিন্ন হিন্দু মন্দিরে ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা পশু বলির প্রথাও হুমকির মুখে পড়েছে। ধর্মীয় নেতারা বলছেন, উৎসবের দিনগুলোতে নির্ধারিত কসাইখানায় এত বিপুল সংখ্যক পশুর চাপ সামলানো কার্যত অসম্ভব।
এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ডিএমকের মুখপাত্র ড. সৈয়দ হাফিজুল্লাহ এই রায়কে কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, এটি কেবল মুসলিমদের ওপর নয়, বরং হিন্দু মন্দিরগুলোর ধর্মীয় ঐতিহ্যের ওপরও আঘাত। এমএমকে সভাপতি এম এইচ জওহিরুল্লাহ একে সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। সমালোচকদের মতে, দুধ দেয় না এমন গরু বা ষাঁড় জবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ জনজীবনেও বিরূপ প্রভাব পড়বে।
এদিকে, রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ নিতে দেরি করা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে সমালোচনা উঠলেও, সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে যে আইনি জটিলতা পর্যালোচনা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতেই কিছুটা সময় ব্যয় হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার মনে করছে, হাইকোর্টের এই রায় বিচারিক আইন প্রণয়নের শামিল, যা বিদ্যমান আইনি কাঠামোকে উপেক্ষা করে দেওয়া হয়েছে। এখন সুপ্রিম কোর্ট এই বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে তামিলনাড়ুর সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলো।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
