দেশে হাম রোগের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১৬০ জন এই সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে আংশিক ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাবের কারণে শিশুদের মধ্যে হামের এই তীব্র প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্তদের সিংহভাগই শিশু, যাদের বয়স ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে। দেশের বিভিন্ন জেলার গ্রামীণ ও জনবহুল শহরাঞ্চলে হামের জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাল রোগ, যা খুব সহজেই একজনের শরীর থেকে অন্যজনে ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুদের শরীরে তীব্র জ্বর, সর্দি, কাশি এবং সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দিচ্ছে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা না করলে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ বা মারাত্মক ডিহাইড্রেশনের মতো জটিলতা তৈরি হয়ে শিশুদের জীবন বিপন্ন হতে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) যৌথভাবে কাজ শুরু করেছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যেসব এলাকায় সংক্রমণের হার বেশি, সেখানে বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের বয়স অনুযায়ী এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো লক্ষণ দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
