রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্য এলাকা মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া বোমার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে মতিঝিল থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া পূর্ববর্তী বিস্ফোরণ ও নাশকতামূলক ঘটনার সঙ্গে এই উদ্ধার হওয়া বোমার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নগরবাসীর গণপরিবহন হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই মেগা প্রজেক্টকে ঘিরে কোনো বড় ধরনের অন্তর্ঘাত বা নাশকতার পরিকল্পনা ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নির্ধারিত একটি পিলারের কাছাকাছি পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি সন্দেহভাজন বস্তু দেখতে পান পথচারীরা। পরবর্তীতে খবর দেওয়া হলে পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এলাকাটি নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে ঘিরে ফেলে বিশেষ প্রযুক্তির সাহায্যে বস্তু পরীক্ষা করা হয় এবং নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেটি একটি তাজা বোমা। পরবর্তীতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে উদ্ধার করা হয় এবং পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের মাঝে সাময়িক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
মামলার নথি ও গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মতিঝিল থানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, মেট্রোরেল স্টেশনের আশপাশের সব কটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঘটনা ঘটার আগের সময়গুলোতে কারা ওই স্থানে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করেছে এবং কারা ব্যাগ বা প্যাকেট জাতীয় কিছু রেখে গেছে, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি রাজধানীর অন্যান্য এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একই ধরনের অপরাধের ধরণ (এমও) মিলিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
এই ঘটনার পরপরই রাজধানীর প্রতিটি মেট্রোরেল স্টেশন এবং এর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত টহল বাড়ানোর পাশাপাশি স্টেশনগুলোর প্রবেশমুখে মেটাল ডিটেক্টর এবং ম্যানুয়াল তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ এবং সিটিটিসি ইউনিট কাজ করে যাচ্ছে। কোনো ধরনের উসকানিমূলক বা নাশকতামূলক তৎপরতা যাতে সংঘটিত হতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে এবং জনগণের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করতে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী এমন অপচেষ্টা চালিয়ে থাকতে পারে। তবে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যাত্রীদের যেকোনো সন্দেহভাজন গতিবিধি বা পরিত্যক্ত বস্তু দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্বরত পুলিশ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুতই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
