বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র উঠে এসেছে ‘বিটিএফ’ (BTF) নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ছাড়াই নার্সিং প্রশিক্ষণের নামে ভুয়া সনদপত্র বিক্রির একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচানোর মতো সংবেদনশীল এই পেশায় অদক্ষ ও সনদহীন ব্যক্তিদের প্রবেশ করিয়ে তারা কেবল প্রতারণাই করছে না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিটিএফ মূলত চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রলুব্ধ করে। নামমাত্র মেয়াদে নামকাওয়াস্তে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ভুয়া সার্টিফিকেট। এই সনদ ব্যবহার করে অনেকেই সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। অথচ, নার্সিংয়ের মতো একটি টেকনিক্যাল পেশায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ এবং নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা অপরিহার্য। যথাযথ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ছাড়া এই ব্যক্তিরা রোগীদের সেবা প্রদানের নামে কার্যত জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং দুর্নীতি নির্মূলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার বিভিন্ন খাতের অব্যবস্থাপনা চিহ্নিত করে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিটিএফ-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকাণ্ড জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অবিলম্বে এই চক্রটিকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, ভুয়া নার্সদের দ্বারা চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তি রোগীদের জন্য যেমন মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করছে, তেমনি প্রকৃত নার্সদের পেশাগত মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ণ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নার্সিং শিক্ষা ও সেবার মান নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। বিটিএফ-এর মতো ভুয়া প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে এমন অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগে তার সরকারি অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই করা একান্ত প্রয়োজন। স্বাস্থ্যখাতের এই অনিয়ম রুখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই এখন সময়ের দাবি।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
