বাংলাদেশে টেকসই মৎস্য চাষ ও জলজ সম্পদ ব্যবস্থাপনার সার্বিক উন্নয়নে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে নেদারল্যান্ডস। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মৎস্য উৎপাদন, আধুনিক চাষ পদ্ধতি প্রবর্তন এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশের মৎস্য খাতকে আরও শক্তিশালী করতে উভয় দেশ একসাথে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ডাচ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান ও বিশাল জলাভূমির কারণে বাংলাদেশে মৎস্য খাতের অভাবনীয় সম্ভাবনা রয়েছে, যা সঠিক প্রযুক্তি ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।
বিশ্বজুড়ে উন্নত কৃষি ও জলজ প্রযুক্তি, আধুনিক হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা এবং নীল অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) বিকাশে নেদারল্যান্ডস শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে ডাচ সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্থানীয় মৎস্যচাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধি করা, মাছের খাদ্যের গুণগত মান উন্নত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করে উৎপাদন বৃদ্ধি করা। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশবান্ধব উপায়ে চিংড়ি ও অন্যান্য প্রজাতির মাছ চাষের ক্ষেত্রে আধুনিক ডাচ কারিগরি সমাধান প্রবর্তনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে চাষিরা কম খরচে ও পরিবেশের ক্ষতি না করে অধিক ফলন নিশ্চিত করতে পারবেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জনগোষ্ঠীর প্রাণিজ আমিষের সিংহভাগ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রপ্তানি আয়ে এ খাতের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তবে পানির গুণগত মানের অবনতি, সনাতন চাষ পদ্ধতির ওপর নির্ভরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের কঠোর মানদণ্ডের কারণে এ খাতটি নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়ছিল। নেদারল্যান্ডসের সাথে যৌথ গবেষণা, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এবং আধুনিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে দেশীয় প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলো আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে পারবে, যা ইউরোপসহ বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের মৎস্য রপ্তানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
উল্লেখ্য, ‘বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ (Delta Plan 2100) প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডস সরকারের ভূমিকা অন্যতম প্রধান। এই মহাপরিকল্পনার একটি অন্যতম স্তম্ভ হলো পানিসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা, যেখানে মৎস্য খাতের উন্নয়ন সরাসরি সম্পৃক্ত। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডাচ সরকারের এই ধারাবাহিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশে কেবল মৎস্য উৎপাদনই বাড়বে না, বরং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং ব্লু ইকোনমির পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হবে। আগামী দিনগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এই দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্ব আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
