দেশের জ্বালানি খাতের সংকট নিরসনে এবং দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘সুন্দরপুর-৪’ নামের নতুন একটি গ্যাস কূপের খননকাজ। রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) এই খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ৫ থেকে ৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বাপেক্সের উপমহাব্যবস্থাপক (ড্রিলিং) ও ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে অবস্থিত এই কূপটির খননকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ভূগর্ভস্থ ভূ-গঠনগত বৈশিষ্ট্যের কারণে এর নামকরণ করা হয়েছে ‘সুন্দরপুর-৪’। এর আগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর এলাকায় সুন্দরপুর গ্যাস ক্ষেত্রের অধীনে ১, ২ ও ৩ নম্বর কূপ খনন করা হয়েছিল। নতুন এই কূপটিও একই রিজার্ভ বা গ্যাস কাঠামোর অংশ হওয়ায় বাপেক্সের নিয়মানুযায়ী এর এই নামকরণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের কারিগরি দিক তুলে ধরে ড্রিলিং ইনচার্জ জাকির হোসেন খান আরও জানান, এই কূপটির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত। তবে মাটির প্রায় ১ হাজার ৩৬১ মিটার গভীরে মূল গ্যাসের স্তর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ভূতাত্ত্বিক জরিপে উঠে এসেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে এর মূল খননকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদরা। বর্তমানে সেখানে পুরোদমে ড্রিলিং বা খনন কার্যক্রম চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন ও গৃহস্থালি জ্বালানির চাহিদা মেটাতে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। এলএনজি আমদানির উচ্চ খরচের ওপর নির্ভরতা কমাতে এ ধরনের নতুন কূপ খনন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সুন্দরপুর-৪ কূপের খনন সফল হলে তা শুধু নোয়াখালী অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় গ্রিডের গ্যাস সরবরাহে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বাপেক্সের প্রকৌশলী ও ভূবিজ্ঞানীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সুসংবাদ পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
