চট্টগ্রাম প্রকৌশل ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) যন্ত্রকৌশল বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী অর্ণব সাহার মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হল-সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নেমে ডুবে তাঁর মৃত্যু হয়। এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তাঁর মা নেলি সাহা ও শোকার্ত পরিবার। ফেনীর বাড়িতে ছেলের নিথর দেহ পৌঁছানোর পর মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ ও বিলাপ উপস্থিত সবাইকে কাঁদিয়েছে।
নিহত অর্ণব সাহা চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের সপ্তম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। অর্ণবের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলায় হলেও তাঁর বাবা প্রবীর রঞ্জন সাহা চাকরির সুবাদে দীর্ঘ তিন দশক ধরে ফেনী শহরের রেলগেট এলাকার মিদ্দাবাড়ি সড়কে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন। অর্ণব ছিলেন মা-বাবার একমাত্র ছোট ছেলে। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতেন এবং ডিপার্টমেন্টের একটি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শিক্ষক ও সহপাঠীদের মাঝে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় টিউশনি শেষে অর্ণব ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু হলসংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নামেন। সাঁতার না জানার কারণে তিনি একপর্যায়ে পানিতে তলিয়ে যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রায় ২০ মিনিট পর সহপাঠীরা তাঁকে পানিতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং পুকুরঘাট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন। চুয়েটের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, অনেকক্ষণ পানির নিচে থাকায় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় সহপাঠীদের কারও কারও মধ্যে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে, যা নিয়ে ক্যাম্পাসে নানা আলোচনা চলছে।
অর্ণবের আকস্মিক মৃত্যুর খবর শুনে রাতেই চুয়েট থেকে দুটি বাসে প্রায় ৭০ জন সহপাঠী ও শিক্ষক ফেনীতে তাঁর বাসায় ছুটে আসেন। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং অর্ণবের শেষকৃত্যে অংশ নেন। গতকাল বুধবার সকালে ফেনী পৌর মহাশ্মশানে অর্ণবের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। অর্ণবের এমন অকাল প্রয়াণ কেবল একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয়নি, বরং পুরো চুয়েট পরিবার ও তাঁর সহপাঠীদের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে রইল।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
