পরিবেশ সুরক্ষায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালের ‘জাতীয় পরিবেশ পদক’ পেলেন তিনজন ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠান। গত ৫ জুন, ২০২৪ তারিখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। ঢাকার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে দেশের পরিবেশ খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখাদের সম্মানিত করা হয়।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে যারা এই পদক লাভ করেছেন তারা হলেন: পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও শিক্ষায় অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ, এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখায় মো. আব্দুল ওহাব। প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাটাগরিতে সম্মাননা পেয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) পরিবেশ বিষয়ক অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবনে, এবং পরিবেশ অধিদপ্তর পরিবেশ নীতি বাস্তবায়ন ও তদারকিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য। এই পদক পরিবেশ সংরক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তাদের দীর্ঘদিনের নিবেদিত প্রচেষ্টার ফল।
‘জাতীয় পরিবেশ পদক’ বাংলাদেশের পরিবেশ খাতে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এই পুরস্কার পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত হয় এবং এর উদ্দেশ্য হলো দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনী এবং কার্যকর পদক্ষেপগুলোকে উৎসাহিত করা। এটি কেবল একটি সম্মাননা নয়, বরং পরিবেশের প্রতি সমাজের সামগ্রিক দায়বদ্ধতাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি প্রতীক। প্রতি বছর এই পদকের মাধ্যমে দেশব্যাপী পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং আরও বেশি মানুষ ও প্রতিষ্ঠান পরিবেশ রক্ষায় অনুপ্রাণিত হয়।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ব্যাপক নগরায়ন এবং শিল্পায়নের ফলে সৃষ্ট দূষণ দেশের পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বায়ু দূষণ, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে, নদী দূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্যের ক্রমবর্ধমান সমস্যা এবং বন উজাড় পরিবেশগত ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। এমন পরিস্থিতিতে, পরিবেশ পদক প্রদান পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার এবং নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে পরিবেশ সুরক্ষায় সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে পরিবেশ সংরক্ষণ অপরিহার্য। তিনি নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নতকরণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সবাইকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন স্তরের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই পুরস্কারপ্রাপ্তি দেশের পরিবেশ আন্দোলনে নতুন গতি আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি শুধু বিজয়ীদেরই নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে পরিবেশের প্রতি তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করবে। সরকার, বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগেই কেবল একটি সবুজ ও সুস্থ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। পরিবেশ রক্ষায় উদ্ভাবনী সমাধান এবং টেকসই অনুশীলনের প্রচারের মাধ্যমে আমরা একটি উন্নত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নিশ্চিত করতে পারি।
পরিশেষে, পরিবেশ সুরক্ষায় জাতীয় পরিবেশ পদকের মতো স্বীকৃতিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের উদ্যোগ একদিকে যেমন পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা বাড়ায়, অন্যদিকে তেমনি টেকসই উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা জরুরি।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
