বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থাপনা এবং ই-গভর্ন্যান্সের বিশ্বমানের অভিজ্ঞতা অর্জনে এস্তোনিয়ায় একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। উত্তর ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত, যারা তাদের নাগরিকদের জন্য একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ ‘ডিজিটাল আইডি’ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এই সফরটি মূলত বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোয় ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত করা এবং সরকারি সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিনিধিদলের এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো এস্তোনিয়ার ‘এক্স-রোড’ (X-Road) প্রযুক্তির কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করা, যা দেশটির সরকারি সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত রাখে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি সমন্বিত ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে দুর্নীতি হ্রাস, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি কমানো সম্ভব হবে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে সুশাসন ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের ওপর জোর দিচ্ছে। এস্তোনিয়ার এই মডেলটি সফলভাবে বাংলাদেশে প্রয়োগ করা সম্ভব হলে তা জাতীয় পরিচয়পত্র, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর ব্যবস্থাকে একীভূত করার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে।
সফরকালে প্রতিনিধিদলটি এস্তোনিয়ার সাইবার নিরাপত্তা অবকাঠামো এবং আইটি খাতের বিশেষজ্ঞদের সাথে বৈঠক করবেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতে এস্তোনিয়া যেভাবে ব্লকচেইন ও এনক্রিপশন প্রযুক্তির ব্যবহার করছে, তা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। এস্তোনিয়ার অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের ডিজিটাল অবকাঠামোকে আরও স্থিতিস্থাপক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সফর শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ডিজিটাল সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।
বাংলাদেশের বর্তমান সরকার যেহেতু একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ডিজিটাল বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেছে, তাই এই ধরনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময় দেশের প্রযুক্তি খাতের সক্ষমতা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দেশে ফিরে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবেন, যার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল রূপান্তরের রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে। এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পথে একটি সাহসী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
