গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এক পারিবারিক আনন্দের মুহূর্ত নিমেষেই চরম বিষাদে পরিণত হয়েছে। দাদার হাত ধরে আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এসে পথদুর্ঘটনাই প্রাণ কেড়ে নিল সাত বছর বয়সী এক শিশুর। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের নাসিরাবাদ এলাকায়। নিহত শিশুটির নাম রাসেল মিয়া (৭)। সে পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বুজবুক শোকরা গ্রামের বাসিন্দা রুবেল মিয়ার একমাত্র ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে শিশু রাসেল তার দাদার সঙ্গে গোবিন্দগঞ্জের নাসিরাবাদ এলাকায় আয়োজিত একটি বিয়ের দাওয়াতে আসছিল। বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তারা আঞ্চলিক মহাসড়কটি পার হওয়ার চেষ্টা করে। পারাপারের একপর্যায়ে শিশুটি তার দাদার সামান্য সামনে এগিয়ে গিয়ে রাস্তার মাঝামাঝি পৌঁছে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘোড়াঘাটের দিক থেকে আসা একটি দ্রতগামী ঘাতক ট্রাক শিশুটিকে মারাত্মকভাবে চাপা দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করতে এগিয়ে আসার আগেই ঘটনাস্থলেই শিশু রাসেলের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জমায়েত হন এবং হাইওয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ দুর্ঘটনা ঘটানো ট্রাকটিকে জব্দ করতে সক্ষম হলেও চালক ও হেলপার কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাত ১১টার দিকে নিহত শিশুর মরদেহ তার পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রাসেলের নিথর দেহ গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় শিশু রাসেলের প্রাণহানি ঘটেছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটিকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই মর্মান্তিক প্রাণহানি আবারও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট মহাসড়কে গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক তদারকির অভাব রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে মহাসড়কে ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় গতিরোধক কিংবা পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
