খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় একটি দ্রুতগামী ট্রাকের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী এক নারী, তাঁর দুই বছরের শিশুকন্যা এবং এক কিশোরী নিহত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাতে উপজেলার গাজীরহাট ইউনিয়নের ডোমরা দক্ষিণ গ্রাম এলাকায় এই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন মোটরসাইকেলচালক সিহাব শেখের স্ত্রী ফারজানা খাতুন (২২), তাঁদের দুই বছর বয়সী কন্যা মায়মুনা এবং সিহাবের শ্যালিকা রুবিয়া খাতুন (১৬)। এদের মধ্যে সিহাবের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার উথালি গ্রামে এবং রুবিিয়ার বাড়ি একই উপজেলার বেন্দার চর গ্রামে। দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলচালক সিহাব শেখ অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর পরিবারের তিন সদস্যের প্রাণহানি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিহাব শেখ তাঁর স্ত্রী, মেয়ে এবং শ্যালিকাকে সঙ্গে নিয়ে একটি মোটরসাইকেলে করে খুলনা থেকে নড়াইলের কালিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে রাত সাড়ে নয়টার দিকে তাঁরা দিঘলিয়া উপজেলার ডোমরা দক্ষিণ গ্রামে জীবন রায়ের বাড়ির সামনে পৌঁছান। এ সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের মোটরসাইকেলটিকে সজোরে চাপা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ফারজানা, মায়মুনা ও রুবিয়া মারাত্মক জখম হয়ে মারা যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘাতক ট্রাকটিকে ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে, তবে চালক বা তার সহকারী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তাদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুর খবরে নিহতদের পরিবারে চলছে মাতম। প্রিয়জনদের এভাবে হঠাৎ হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন স্বজনেরা। সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে বেপরোয়া গতিতে ভারী যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতাই এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার মূল কারণ। স্থানীয় এলাকাবাসী এই রুটে দ্রুত গতিরোধক স্থাপন এবং ভারী যান চলাচলের ওপর কড়া নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
