রাজধানীর আগারগাঁও এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের অন্যতম মূলহোতা মো. শাহাদাত হোসেনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় সিটিটিসির ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের একটি দল এই সফল অভিযান পরিচালনা করে।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী গণমাধ্যমকে এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত শাহাদাত হোসেন বিমানবন্দর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশের আওতায় দায়ের করা একটি মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি। দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে গ্রেফতারে নজরদারি চালিয়ে আসছিল।
প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে সিটিটিসি জানায়, শাহাদাত মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়াভিত্তিক একটি শক্তিশালী মানবপাচার সিন্ডিকেটের মূল পরিকল্পনাকারী ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করতেন। উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে এবং উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সহজ-সরল বেকার যুবকদের কম্বোডিয়ায় পাচার করতো এই চক্রটি। দেশটিতে পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে নির্যাতন চালানো হতো এবং সাইবার স্ক্যাম বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে বাধ্য করা হতো। অনেক সময় তাদের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হতো বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে মানবপাচারের ঘটনা উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে কম্বোডিয়া, লাওস ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোতে সংঘটিত এসব অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে সিটিটিসি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। শাহাদাতের গ্রেফতারে এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের দেশীয় নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে সহায়ক হবে বলে আশা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত শাহাদাতের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে, যাতে তার মাধ্যমে চক্রের অন্য সহযোগীদের নাম ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেফতারেও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
শেষ বার্তা সময়ের শেষ বার্তা
