Wednesday , July 29 2026
Breaking News
১২ সপ্তাহের বিশেষ উদ্যোগে গাজীপুরকে শব্দদূষণ মুক্ত ও হর্নবিহীন করার ঘোষণা প্রশাসনের

১২ সপ্তাহের বিশেষ উদ্যোগে গাজীপুরকে শব্দদূষণ মুক্ত ও হর্নবিহীন করার ঘোষণা প্রশাসনের

শব্দদূষণের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে এবং একটি বাসযোগ্য পরিবেশ গড়ে তুলতে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক অনন্য ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আগামী ১২ সপ্তাহের মধ্যে পুরো গাজীপুর মহানগরকে সম্পূর্ণ হর্নমুক্ত ঘোষণা করা এবং অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানোর প্রবণতা চিরতরে বন্ধ করা। বিশেষ করে সরকারি ও প্রশাসনিক গাড়িগুলোতে এই নিয়ম কঠোরভাবে পালনের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমবর্ধমান শব্দদূষণের কারণে জনস্বাস্থ্য বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, তা রোধে এই সর্বাত্মক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এই বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকারি যানবাহনে অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে কড়া নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। প্রশাসনিক গাড়িগুলো যদি নিজেরাই আইন অমান্য করে, তবে সাধারণ নাগরিকদের সচেতন করা কঠিন হয়ে পড়বে—এই উপলব্ধি থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অনুকরণীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের গাড়িগুলোতে হর্ন ব্যবহার সীমিত করার পাশাপাশি ড্রাইভারদের জন্য বিশেষ কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বয়ে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, ফেস্টুন প্রদর্শন এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচার চালানো হচ্ছে।

পরিবেশবাদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা গাজীপুর প্রশাসনের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, অতিরিক্ত শব্দদূষণের কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি হারানোর পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, এবং মানসিক অবসাদের মতো জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল ও ঘনবসতিপূর্ণ গাজীপুরের মতো এলাকায় যানবাহনের হাইড্রোলিক ও বিকট হর্নের শব্দ জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। প্রশাসনের এই ১২ সপ্তাহের কর্মপরিকল্পনা সফল হলে তা শুধু গাজীপুরেই নয়, বরং দেশের অন্যান্য জনবহুল ও বিভাগীয় শহরগুলোর জন্যও একটি মডেল বা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে তারা মনে করছেন।

এই কার্যক্রমকে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করতে শুধুমাত্র প্রশাসনিক নির্দেশনার ওপর নির্ভর না করে চালক এবং সাধারণ যাত্রীদের মানসিকতা পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট ১২ সপ্তাহের এই সময়সীমা পার হওয়ার পর আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে অতিরিক্ত ও নিষিদ্ধ হর্ন ব্যবহারকারীদের জরিমানা এবং যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষার সময় হর্নের বিষয়টি কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। প্রশাসনের এমন কঠোর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে গাজীপুরবাসী খুব দ্রুতই একটি শান্ত, সুশৃঙ্খল ও শব্দদূষণ মুক্ত নগরী উপহার পাবে বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করা হচ্ছে।

এছাড়াও

আজকের বাংলাদেশ: প্রকৃতি, জনজীবন ও নানা ব্যস্ততার খণ্ডচিত্র

আজকের বাংলাদেশ: প্রকৃতি, জনজীবন ও নানা ব্যস্ততার খণ্ডচিত্র

আজ ২৮ জুলাই ২০২৬, সোমবার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসা খণ্ডচিত্রগুলোতে ফুটে উঠেছে প্রকৃতি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *